দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আলোচিত শিশু সিরাজুম আল শামস (৭) হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামি আমানুর ইসলাম আমান (২১)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার সকাল ১১টায় দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃত আমানুর ইসলাম আমান নিহত শিশুর আপন চাচাতো ভাই। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের আমরুলবাড়ি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মজিদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে মমিনুল ইসলামের একমাত্র সন্তান সিরাজুম আল শামস নিজ বাড়িতে ঘুমাতে যায়। এ সময় চাচাতো ভাই আমান কৌশলে তাকে নিজের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর আমান ছেঁড়া একটি পাঞ্জাবি নিয়ে শিশুটির মা শাম্মী আক্তারের কাছে এসে সেটি সেলাই করে দিতে বলেন। এ সময় শিশুটি কোথায়—এমন প্রশ্ন করলে আমান জানায়, সে তাদের বাড়িতে তার ছোট বোনের সঙ্গে খেলছে।
দীর্ঘ সময়েও শিশুটি বাড়িতে না ফেরায় পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা জানতে পারে, আমরুলবাড়ি দারুস সুন্নাহ জান্নাতবাগ নূরানী ও কওমি মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি ভুট্টা ক্ষেতে শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমানুর ইসলাম আমান হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তিনি সম্প্রতি এক মেয়েকে নিয়ে পালানোর ঘটনায় পারিবারিক চাপে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন মোবাইল ফোনে অপরাধমূলক ভিডিও দেখায় আসক্ত ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চাচার সম্পত্তি এককভাবে ভোগের লোভ এবং পারিবারিক ক্ষোভ থেকেই সে পরিকল্পিতভাবে চাচাতো ভাইকে হত্যা করে।
তদন্তে জানা যায়, মাদ্রাসার উত্তর পাশের নির্মাণাধীন একটি কক্ষে প্রথমে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করতে কোলে করে নিয়ে পাশের ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে দেয়। মৃত্যুনিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মমিনুল ইসলাম নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমানুর ইসলাম আমানকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য দিনাজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক আরও তিনজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি; আমান একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

