আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কি জানতেন তাঁর ওপর এমন ভয়াবহ হামলা হতে পারে? রোববার ভোরে তেহরানের ‘পাস্তুর কমপ্লেক্সে’ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় প্রাণ হারানোর আগেই কি তিনি নিজের উত্তরসূরি নির্ধারণ করে গিয়েছিলেন? প্রায় চার দশক ধরে ইরানের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এই নেতার প্রয়াণের পর এখন বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন—ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কার হাতে?
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরএনএ (IRNA) নিশ্চিত করেছে, ১ মার্চ ভোরে নিজ কার্যালয়ে হামলার সময় নিহত হন খামেনি। তবে নিউইয়র্ক টাইমস এবং ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, যুদ্ধের ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে খামেনি আগেই দেশ পরিচালনার একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা করে গিয়েছিলেন। মূলত বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে কিছুটা পাশ কাটিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিকে বিশেষ সামরিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব ৮৮ সদস্যের ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস-এর। তবে জানা গেছে, গত জুনেই খামেনি সম্ভাব্য তিনজনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা চূড়ান্ত করেছিলেন। এই তালিকায় থাকা প্রভাবশালী নামগুলো হলো:
১. বিচার বিভাগের বর্তমান প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই।
২. খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত দপ্তরপ্রধান আলী আসগর হেজাজি।
৩. এবং সংস্কারপন্থি নেতা ও খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি।
অনেকের ধারণা ছিল খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি হতে পারেন পরবর্তী নেতা। কিন্তু খামেনি নিজে নেতৃত্বকে বংশানুক্রমিক করার ঘোর বিরোধী ছিলেন বলে জানা গেছে। ফলে মোজতবা দৌড়ে থাকলেও তাঁর পথ খুব একটা সহজ নয়।
শনিবার রাত পর্যন্ত ইরানের কার্যকর নেতৃত্ব আসলে কার হাতে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও, বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠিত হতে পারে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি (IRGC) এই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষজ্ঞ পরিষদ কি দ্রুত নতুন নেতার নাম ঘোষণা করতে পারবে? নাকি চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সামরিক বাহিনী সরাসরি ক্ষমতা দখল করবে? ইরানের এই সংকটময় মুহূর্ত কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের মানচিত্র বদলে দিতে পারে।

