দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। আন্দিজ পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই দেশের আকাশপথে প্রতিদিনই ব্যস্ততা থাকে। কিন্তু গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই ব্যস্ত আকাশই যেন হঠাৎ থমকে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট। এল আলতো—দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর—ধীরে ধীরে সন্ধ্যার অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময় সান্তা ক্রুজ শহর থেকে ছেড়ে আসা একটি সামরিক কার্গো উড়োজাহাজের অবতরণের কথা ছিল এল আলতো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ। আকাশে তখন সবকিছুই স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল।
বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। উড়োজাহাজটি রানওয়ের দিকে নামতে শুরু করে। কিন্তু মাটিতে স্পর্শ করার পর হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে সেটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা পরে জানান, উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে দ্রুতগতিতে সামনে এগিয়ে যায় এবং কাছের একটি মহাসড়কে যানবাহনের ওপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ।
ধোঁয়া আর আগুনে ঢেকে যায় দুর্ঘটনাস্থল। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন সাহায্যের জন্য। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই এল আলতো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের উড়োজাহাজের ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। আকাশপথে চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেওয়া হয় নিরাপত্তার স্বার্থে। বলিভিয়ার উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ জানায়, কী কারণে অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সন্ধ্যার সেই কয়েক মিনিটে বদলে যায় বহু মানুষের জীবন। একদিকে শোকাহত পরিবারগুলোর আহাজারি, অন্যদিকে শহরজুড়ে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা—সব মিলিয়ে এল আলতো যেন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তদন্তের ফলাফল যা-ই হোক, সেই সন্ধ্যার স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে বহন করবে শহরটি।

