দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরে রাজনীতি ও সংসার—দুই ক্ষেত্রেই সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টানা তিনবার নির্বাচিত মহিলা কাউন্সিলর শাহিন সুলতানা বিউটি। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও তিনি জনসেবায় সক্রিয় রয়েছেন। ভবিষ্যতে সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন এই নারী নেত্রী।
দিনাজপুর শহরের ৫ নম্বর উপশহরে স্বামী ও এক ছেলে–দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন শাহিন সুলতানা বিউটি। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। ২০১২ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে দিনাজপুর পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়েও তার জনপ্রিয়তা অটুট ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
২০০১ সালে বিএনপির মহিলা দলের ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপ্রেরণায় রাজনীতিতে সক্রিয় হন বলে জানান শাহিন সুলতানা বিউটি। বর্তমানে তিনি দিনাজপুর জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বও সমানতালে সামলাচ্ছেন এই নারী কাউন্সিলর। প্রতিদিন ভোরে উঠে পরিবারের জন্য রান্না-বান্না, ঘর গোছানো ও সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর পর শুরু করেন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড। বাসায় বসেই নিয়মিত মহিলা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক পরিকল্পনা করেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে তাকে নানা বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ১৭টি মামলার আসামি হন এবং সাতবার গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেন বলে জানান তিনি।
শাহিন সুলতানা বিউটির স্বামী আফজাল হোসেন খান একজন সাবেক সেনা সদস্য এবং তিনিও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। পারিবারিক সমর্থনই তাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
শাহিন সুলতানা বিউটি বলেন, “আমি সব সময় চেষ্টা করি পরিবার আর এলাকার মানুষের দায়িত্ব একসাথে পালন করতে। মানুষের ভালোবাসাই আমাকে বারবার নির্বাচিত করেছে। বর্তমানে ১৭টি রাজনৈতিক মামলা মাথায় নিয়ে সাতবারের বেশি জেলা কারাগারে থাকতে হয়েছে। তখন ছোট ছোট সন্তানদের পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা খাবারের ব্যবস্থা ঠিকভাবে করতে না পারায় অনেক কষ্ট পেয়েছি। মামলার কারণে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবুও দলকে অনেক ভালোবাসি। দলের কোনো দায়িত্বে আসতে পারলে নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করব। দিন শেষে একজন বিএনপির কর্মী হিসেবে মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, আজীবন দলের আনুগত্যে থেকে মানুষের সেবা করে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। আমি এলাকার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আগামীতে সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য হয়ে মানুষের অধিকার ও নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে চাই। অতীতের ত্যাগ ও দলের প্রতি আনুগত্য বিবেচনায় দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে, তাহলে সংসদে সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরতে চাই। দলীয় প্রধান সিদ্ধান্ত নিলেই আগের মতোই দলের প্রতি অনুগত থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাব।

