এস এম হাবিবুল হাসান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় ঘুষের ছয়শো টাকা না পেয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান উপ সহকারি প্রকৌশলী আল আমিন হোসেন।এতেও ক্ষান্ত না হয়ে অফিস কক্ষে ভুক্তভোগী ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেনকে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন, সাতক্ষীরার তালা উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক। ঘটনাটি নিয়ে তাৎক্ষণিক ফেসবুকে লাইভ করেন ঠিকাদারের সঙ্গে থাকা জেলা কৃষক দলের আহবায়ক সালাউদ্দীন লিটন।
ঠিকাদার উপজেলা কৃষকদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বুধবার (২৫ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি টেন্ডারের জামানত এক লাখ ৪২ হাজার টাকা ছাড় করতে এলজিইডি অফিসে যায়। অফিসের উপ সহকারি প্রকৌশলী (এসও) আল আমিন হোসেন দেড় হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন।সে অনুযায়ী তাকে এক হাজার টাকা দিয়েছি। বৃহস্পতিবার আবারও ফাইলটি ছাড় করাতে অফিসে গেলে এসও আল আমিন বাকি ৫শ টাকা দাবি করেন। একই সাথে পিয়নের জন্য আরও একশত টাকা দিতে হবে। তিনি আরও জানান,দাবী মত টাকা না দিলে অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিত্তন্ডা হয়।সেজন্য আমাকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী অফিসের একটি কক্ষে ঘন্টাব্যাপি তালা বন্ধ করে রাখেন।খবর পেয়ে অন্যান্য ঠিকাদাররা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমাকে মুক্ত করে।
ঘটনার বিষয়ে সাতক্ষীরার সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী জানান, ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন অফিসের এসও আল আমিনের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তিনি এসও আল আমিনকে মারতে উদ্যত হয়।উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ঠিকাদার জাহাঙ্গীরকে সেভ করার জন্য একটি ঘরে তালা বন্ধ করে রাখা হয়। এরপর সাতক্ষীরা জেলা ঠিকাদার কল্যাণ কমিটির লোকজনকে খবর দেওয়া হয়। তারা পৌঁছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যস্ততায় দু’পক্ষের মিমাংসা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানান, দু’পক্ষের মিমাংসা করা হয়েছে। তবে কেউ ঘুষ নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

