আজকের সকালটা ছিল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক ভিন্ন রঙে ভরা। দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানটি শুরু হলো জাতীয় সংগীতের সুরে, আর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে। সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানের স্থলে প্রবেশ করলেন।
প্রধানমন্ত্রী আজ এখানে এসেছেন এক বিশেষ কারণে—জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির এবং এক জনপ্রিয় সংগীত ব্যান্ডের হাতে ‘একুশে পদক’ তুলে দিতে।
চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য পদক পান ফরিদা আক্তার ববিতা। চারুকলার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পদক পেয়েছেন অধ্যাপক মো. আবদুস সাত্তার। স্থাপত্যে মেরিনা তাবাশ্যুম, নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ এবং নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদও তাদের অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পদক পেলেন।
সংগীতে মরণোত্তর পদকপ্রাপ্ত হয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু। তার স্ত্রী ফেরদৌস আখতার চন্দনা তাঁর পক্ষে পদক গ্রহণ করেন। এছাড়া জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ-এর জন্য পদক নেন দলনেতা শেখ মনিরুল আলম।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তিনি পদকপ্রাপ্তদের নাম ও গুণগত অবদান পাঠ করেন এবং পদক প্রদান পর্বের সঞ্চালনাও করেন। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো পরিবেশই ছিল গর্ব আর সম্মাননার সেতুবন্ধনে ভরা—যেখানে দেশের প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে এক ইতিহাস রচিত হলো।

