রমজানের আগমনে শুধু মুসলিমদের জীবনেই নয়, বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও পুষ্টির জগতে খেজুরের গুরুত্ব অসীম। সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি শুধু ইফতার ও সেহরির অভ্যন্তরীণ অংশ নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে বছরে প্রায় ৯৫ লাখ টনের বেশি খেজুর উৎপাদিত হয়। আর এ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশ থেকে।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিসর, যেখানে বছরে প্রায় ১০ লাখ ৮৪ হাজার ৫২৯ টন খেজুর উৎপাদিত হয়। এ উৎপাদনের মাত্র ৩ শতাংশই রপ্তানি হয়, যার অর্ধেক চলে যায় মরক্কোতে। মিসরের খেজুরের স্বাদ ও মান এতটাই জনপ্রিয় যে এটি ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যেও চাহিদা রাখে।
ইরান বছরে ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টন খেজুর উৎপাদন করে, যার বড় ক্রেতা ভারত, মালয়েশিয়া ও রাশিয়া। সৌদি আরব উৎপাদন করে ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮৩ টন, যেখানে আল-কাসিম, আল-মদিনা ও আল-আহসা অঞ্চল বিখ্যাত। ইরাক যুদ্ধের কারণে একসময় পিছিয়ে গেলেও বর্তমানে বছরে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৪৪০ টন খেজুর উৎপাদন করছে।
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় খেজুর উৎপাদক পাকিস্তান, যেখানে বছরে সাড়ে ৫ লাখ টনের বেশি উৎপাদন হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৫ লাখ ৩৩ হাজার টনের বেশি খেজুর উৎপাদিত হচ্ছে। আলজেরিয়ার খেজুর ‘কুইন অব ডেটস’ হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত। আফ্রিকার সুদান ও দক্ষিণ সুদানও যথাক্রমে ৪ লাখ ৩৫ হাজার ও ৪ লাখ ৩২ হাজার টন উৎপাদন করে, আর ছোট দেশ ওমান বছরে ২ লাখ ৩৯ হাজার টনের খেজুর উৎপাদন করে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই ফলের জন্য আকাঙ্ক্ষিত। শুধু মুসলিম উম্মাহ নয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশই খেজুরের পুষ্টিগুণ ও স্বাদকে মূল্য দেয়। রমজান মাসে প্রতিটি ইফতার টেবিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠা খেজুরের এই বৈশ্বিক যাত্রা প্রমাণ করে, কিভাবে একটি ফল শুধু খাদ্য নয়, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের সেতুবন্ধনও তৈরি করতে পারে।

