বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সম্প্রতি তার সাংগঠনিক কাঠামোতে এক বড় পুনর্গঠন করেছে। কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা, কর্মপরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ—তিন স্তরের নীতিনির্ধারণী পর্ষদে এবার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে পুরনো প্রজন্মের অভিজ্ঞ নেতা ও নবীন তরুণদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়।
পুনর্গঠনের সবচেয়ে 눈ে পড়া পদ হলো নায়েবে আমিরের। ৭৫ বছরের ইতিহাসে রাজনৈতিক জটিলতায় জড়িত, মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এবং কারাভোগ শেষে মুক্তি পাওয়া এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবার নায়েবে আমির পদে ১ নম্বরে রাখা হয়েছে। রংপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত এই নেতা দলের ভেতরে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার প্রয়াসের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তৃতীয়বারের মতো জামায়াতের আমির হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শফিকুর রহমান। সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। নির্বাহী পরিষদের ২১ সদস্যের মধ্যে আটজন সংসদ সদস্য, এবং দুই নতুন মুখ—ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিম—নির্বাহী পরিষদে যুক্ত হয়েছেন।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে এবার ৮৮ সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে ২১ নারী। প্রথমবারের মতো নারী সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে অনেকে জামায়াতের মহিলা বিভাগ ও ছাত্রী সংস্থার শীর্ষ নেত্রী। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, নারীদের নাম প্রকাশ না করার কারণ ছিল মামলা ও হামলার আশঙ্কা।
এছাড়া জামায়াত দেশে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ করেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হয়েছে—পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে জ্যেষ্ঠ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম-কে প্রধান করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জামায়াতের এই পুনর্গঠন প্রমাণ করছে যে, দল শুধু প্রাচীন নেতৃত্বকে ধরে রাখছে না, বরং নবীন নেতৃত্বকে সামনে এনে কাঠামোগত শক্তিশালীকরণ ও সংগঠন বিস্তারের দিকে মনোনিবেশ করছে। তবে নির্বাহী পরিষদে নারী সদস্য না থাকা এবং মহিলা বিভাগের পৃথক কাঠামো—এগুলো এখনও বিতর্কের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
সংক্ষিপ্তভাবে, জামায়াতের নতুন কাঠামো হলো প্রবীণ ও নবীন নেতৃত্বের মেলবন্ধন, নারীর সংযোজন এবং সাংগঠনিক বিস্তারের বার্তা—যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করছে।

