মোঃতাইজুল ইসলাম, শরনখোলা প্রতিনিধি:
সুন্দরবনে দস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর অভিযান। এ অভিযানে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে রয়েছে নৌবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান দস্যু নির্মুল না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
সম্প্রতি সুন্দরবনে দস্যুদের দৌরাত্ম্য বাড়ায় তা নির্মূলে কঠোর ভূমিকা পালনের জন্য খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার প্রশাসনের সঙ্গে গত রোববার খুলনা সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। এরপর আজ সকাল থেকে সুন্দরবনে অভিযানে নেমেছে যৌথ বাহিনী।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লে. কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, সম্প্রতি সুন্দরবনে দস্যুতা বেড়েছে। এই দস্যুতা নির্মুলে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করেছে। দস্যু নির্মূল না করা পর্যন্ত গোটা সুন্দরবনে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, সুন্দরবনের দুবলার চরের দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনে অন্তত ১০ থেকে ১২টি দস্যু বাহিনী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে সুমন, কানা শরিফ, আলিফ ও জাহাঙ্গীর বাহিনী অন্যতম। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাহিনী হলো আলিফ বাহিনী। এই বাহিনীতে থেকে ১২টি অস্ত্র ও ২০ জন সদস্য রয়েছে। এরা প্রতিনিয়ত সাগর ও সুন্দরবন থেকে জেলেদের অপহরণ করছে। এখনও দস্যুদের কাছে ২০ থেকে ২২ জন জেলে জিম্মি রয়েছে। আর চার-পাঁচজন মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছে। আমরা যৌথবাহিনীর অভিযানকে স্বাগত জানাই। অভিযান চলমান থাকলে দস্যুতা কমবে আর জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ আহরণ করতে পারবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, যেকোনো মূল্যে সুন্দরবনে দস্যুদের দমন করা হবে। সুন্দরবনের জেলেদের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

