নিষিদ্ধ ঘোষিত দল হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার অপচেষ্টায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকারের ‘ছাড় দেওয়ার মানসিকতার’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ দল। তাদের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ এখতিয়ার নেই।” তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কতিপয় নেতার দেওয়া বিভিন্ন নমনীয় বক্তব্যের সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ এই দলটি আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষত, সরকারের পক্ষ থেকে ‘ছাড় দেওয়ার মানসিকতা’ তাদের প্রত্যাশাকে উস্কে দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুনরায় তাদের দলীয় অফিস খুলে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছে এবং একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দেশে আবারও অতীতের জুলুম-নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি হলেও সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের উদ্দেশ্যে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, দেশবাসীর সামনে সরকারের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করা এখন সময়ের দাবি। দেশের শান্তি, আইনশৃঙ্খলা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া জাতির জন্য আত্মঘাতী হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
বিবৃতির শেষে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দেশের সর্বস্তরের জনগণকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার ব্যাপারে সতর্ক, সজাগ ও সচেতন থাকার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

