নাটোরের বড়াইগ্রামে এক কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুদ্ধ সহপাঠীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছে ও কলেজ গেইট ভাংচুর করে। রবিবার বিকেলে বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা উপজেলার বনপাড়া পৌর চত্বরে অবস্থান নেয় এবং প্রায় ১ ঘন্টা নাটোর-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এছাড়াও বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা বনপাড়া সেন্ট যোশেফস স্কুল এন্ড কলেজের গেইট ভাংচুর চালায়।
জানা গেছে, সকালে কলেজ কর্তৃপক্ষ এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। অনুত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থী যোশেফস বর্ণ রোজারিও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি ফিরে গলায় জানালার পর্দা দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর মহল্লার বিপ্লব রোজারিও-এর ছেলে।
ছাত্রের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে মহাসড়কে নেমে আসে। শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজ কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে, যাতে তারা অতিরিক্ত অর্থ আয় করতে পারে। ৫০১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, যার মধ্যে ১০১ জন পাস, ৩৮ জন ফেল, এবং ৩৬২ জনের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, কিছু শিক্ষক প্রাইভেট না পড়ালে ফেল করিয়ে দেন।
মহাসড়ক অবরোধের ফলে তিন দিকের সড়কে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে জেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ—including অধ্যক্ষ এম লুৎফর রহমান, এবিএম ইকবাল হোসেন রাজু ও আসাদুজ্জামান আসাদ—পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী কমিশনার (ভুমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর, বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালাম এবং বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সুমন চন্দ্র সাহা পুলিশের টীম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কলেজের অধ্যক্ষ ড. শংকর ডমিনিক গমেজ বলেন, ফলাফল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করানোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কৌশল নেওয়া হয়; এতে অর্থ আয় করার কোনো উদ্দেশ্য নেই। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের পরামর্শ অনুযায়ী পড়াশোনা করলে ভালো ফলাফল করতে সক্ষম হবে। কোনো অভিযোগ থাকলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ উপস্থিত হয়ে সরাসরি অধ্যক্ষের সঙ্গে তা উত্থাপন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


