সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরায় ‘রুপা এনজিও’ নামের একটি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে এক বিধবা ভিক্ষুকের সঞ্চিত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রলোভন দেখিয়ে টাকা জমা নেওয়ার পর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মধুমাল্লারডাঙ্গী গ্রামের মৃত সুলতান মিস্ত্রির স্ত্রী মোছা. ছখিনা খাতুন (৭০) বাদী হয়ে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি মনিরুল ইসলাম (৬০) ও সোমা খাতুন (৪০)-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনেন।
অভিযোগে ছখিনা খাতুন উল্লেখ করেন, প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করছেন। ভবিষ্যতের কথা ভেবে দীর্ঘদিনে কষ্টার্জিত ৬০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেন।
প্রায় আট বছর আগে মনিরুল ইসলাম তাঁকে ‘রুপা’ নামের একটি সমিতিতে টাকা জমা রাখার প্রস্তাব দেন। ছয় বছর পর জমা টাকার দ্বিগুণ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই প্রলোভনে পড়ে ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট তিনি ৬০ হাজার টাকা জমা দেন। ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর টাকা চাইলে গত তিন বছর ধরে ‘দিচ্ছি, দেব’ বলে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরই মধ্যে তাঁদের এলাকায় সমিতির কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। মনিরুল ইসলাম পালিয়ে গেছেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
ছখিনা খাতুনের অভিযোগ, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি সোমা খাতুনের সাতক্ষীরার বাসায় গিয়ে পাওনা টাকার কথা বললে তাঁকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। টাকা চাইলে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃদ্ধ ও অসহায় হওয়ায় তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় দুজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘রুপা এনজিও’ নামের এই সমবায় সমিতি দীর্ঘদিন ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আমানত সংগ্রহ করে আসছিল। কালীগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর, বিষ্ণুপুর ও নলতা এলাকায় তাদের একাধিক কার্যালয় ছিল। বর্তমানে এসব কার্যালয় তালাবদ্ধ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মোটা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছরে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে অফিস বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গা ঢাকা দেন। অনেক আমানতকারী এখন টাকা ফেরত না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
আরেক ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন বলেন, এনজিওর কর্মী সোমা খাতুনের কথায় বিশ্বাস করে তিনি টাকা জমা দেন। এখন চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে কষ্টে দিন কাটছে তাঁর।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, সরকার পরিবর্তন ও নির্বাচনের কারণে কিছু সমস্যা হয়েছে। শিগগিরই তহবিল পেলে গ্রাহকদের টাকা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করবেন। বিষয়টি নিয়ে ‘আর কিছু না করার’ অনুরোধও জানান তিনি।
জেলা সমবায় অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রুপা এনজিও’ নামে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অনুমোদন দেওয়া নেই। যদি তারা পরিচালনা করে থাকে তাহলে সেটি ভূয়া।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক ( তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

