নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
পবিত্র রমজানে সারাদিন পানাহান থেকে বিরত থাকার পর ইফতারির টেবিলে সাধারণত নানা পদ থাকে। হরেক রকমের খাবারের মধ্যে যে পদটি বাঙালির ইফতারের টেবিলে প্রায় অক্ষরে অক্ষরে দেখা যায়, তা হলো মুড়ি মাখা।
ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, কাঁচা মরিচ, শসা এবং সরিষার তেলে মাখানো ঝুরঝুরে মুড়ি যেন এক ধরনের ঐতিহ্য। তবে মুড়ির সঙ্গে জিলাপি মেশানো হবে কি না—এ নিয়েই প্রতিবছর তৈরি হয় তর্ক। কারও কাছে এটি অসাধারণ স্বাদ, কারও কাছে বেমানান।
পুরান ঢাকার চকবাজারে ইফতারের সময় মুড়ি-জিলাপির মিশ্রণ বেশ জনপ্রিয়। সারাদিন রোজা রাখার পর মচমচে মুড়ি আর রসালো জিলাপি ক্লান্তি দূর করে। পুষ্টিগত দিক থেকে, জিলাপিতে থাকা চিনি দ্রুত গ্লুকোজে পরিণত হয়ে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। মুড়িও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ, যা শরীরকে শক্তি দেয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, জিলাপি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত এবং বেশি চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করতে পারে। মুড়ির সঙ্গে জিলাপি খেলে গ্লাইসেমিক লোড আরও বাড়তে পারে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ঝুঁকি যাদের আছে, তাদের জন্য এটি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত খেলে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
অতএব মুড়ি-জিলাপি খাওয়া না খাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। তবে স্বাস্থ্য সচেতন হলে পরিমিতি বজায় রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।


