কক্সবাজার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ : পর্যটকশূন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপে কেয়াগাছ কেটে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে বন বিভাগ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান গতকাল টেকনাফ থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামি দুইজন হলেন সেন্টমার্টিন দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে কেফায়েত আল্লাহ এবং রিসোর্ট মালিক নুর মোহাম্মদ খান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণের জন্য কয়েকটি কেয়া গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল সরেজমিনে গিয়ে এ ঘটনা সত্য প্রমাণিত করে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বীচের পাশে রিসোর্ট নির্মাণের জন্য গাছ কাটা হয়েছে। তদন্তে যদি আরও কেউ জড়িত থাকে, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”
উল্লেখ্য, পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করেছিল। ইসিএ আইন অনুযায়ী, দ্বীপে এমন কোনো কাজ করা যাবে না যা পানি, মাটি, বায়ু বা প্রাণীর ক্ষতি করে। ২০২২ সালে সরকার আরও একটি প্রজ্ঞাপনে সেন্টমার্টিনকে মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া ঘোষণা করে, যাতে ইট ও সিমেন্ট আনা নিষিদ্ধ।
দীর্ঘ কয়েক যুগে দ্বীপে প্রবাল প্রজাতির সংখ্যা ১৪১ থেকে কমে ৪০-এ নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইতোমধ্যেই এখানে ২৩৭টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ নির্মিত হয়েছে।

