শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
জলদস্যুদের হামলার ভয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন না দুবলার চরের ১০ সহস্রাধিক জেলে। গত তিনদিন মাছ ধরা বন্ধ রেখে জেলেরা তাঁদের ঘরে অবস্থান করছেন। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে দুবলার চরের মৌসুমি এ শুটকী মাছের ব্যবসা। দরিদ্র্য জেলেরা হতাশায় দিন পার করছেন। দস্যু দমনে তাঁরা প্রশাসনের কঠোর হস্থক্ষেপ কামনা করছেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে পৃথক দুটি স্থানের জেলে বহরে হানা দিয়ে বনদস্যুরা ২০ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। সোমবার দিবাগত রাতে সাগরের নারিকেল বাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শ্যালার চরের জেলে পল্লীতে হানাদিয়ে ৬ জেলেকে মুক্তিপণের টাকার দাবীতে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহৃতদের কাউকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি। এ কারণে জেলেপল্লীসহ জেলেদের পরিবারে চরম উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।
পূর্ব সুন্দরবনের জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে অজ্ঞাত পরিচয় বনদস্যু বাহিনী দুবলার নারিকেল বাড়ীয়া চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরারত জেলে বহরে হানা দেয়। দস্যুরা ৮টি ট্রলার থেকে ৮ জেলেকে তাদের ট্রলারে তুলে নিয়ে গেছে।
অপহৃত জেলেরা হচ্ছেন, হরিদাস বিশ্বাস (৫০), গোপাল বিশ্বাস (৪৫), রমেশ বিশ্বাস (৫০), প্রশান্ত বিশ্বাস (৪৮), শংকর বিশ্বাস (৩৫), তুষার বিশ্বাস(৪০), মনিরুল বিশ্বাস (৪৮) ও উজ্জল কুমার বিশ্বাস (৪৫)। এদের বাড়ী খুলনার পাইকগাছা এলাকায়।
এ ছাড়া সোমবার দিবাগত রাতে দুবলার চর সংলগ্ন সাগরের আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় জেলেদের বহরে বনদস্যু সুমন জাহাঙ্গীর বাহিনী হানাদিয়ে অস্ত্রের মুখে ১২টি ট্রলার থেকে আলোরকোলের ১২ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। অপহৃত জেলেরা হচ্ছে, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রুপকুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। এ সকল জেলেদের বাড়ী পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি এলাকায়। এর আগে শ্যালা জেলে পল্লী থেকে ৬ জেলেকে অপহরণ করে নেয় বনদস্যুরা।
দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, চারটি বনদস্যু গ্রুপ সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের দাপটে জেলেদের মাঝে চরম আতংক দেখা দিয়েছে। দস্যুদের দমন করা না গেলে জেলেরা পেশা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। জেলেরা দস্যু দমনে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
সুন্দরবনপূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবং বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করা হয়েছে।

