ফেব্রুয়ারির হালকা শীতল বাতাসে সন্ধ্যা নামতেই বদলে যেতে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা ক্যাম্পাস। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চোখে পড়ে চারদিকে। প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে আবাসিক হল—সবখানেই যেন এক নীরব, গম্ভীর আয়োজন।
১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার পর ক্যাম্পাসে প্রবেশে থাকবে কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণ। আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদেরও অনুরোধ করা হয়েছে, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে নিজ নিজ হলে ফিরে যেতে। জরুরি প্রয়োজনে নিরাপত্তা পাস ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যেন নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে একুশের প্রথম প্রহরকে বরণ করা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে, উত্তোলন করা হবে কালো পতাকা। বিভিন্ন মসজিদ ও উপাসনালয়ে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে শোক ও শ্রদ্ধার আবহ ধীরে ধীরে গাঢ় হয়ে ওঠে।
২১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টায় উপাচার্য ভবনের সামনে ‘স্মৃতি চিরন্তন’ চত্বর থেকে বের হবে মৌন মিছিল ও প্রভাতফেরি। নেতৃত্ব দেবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা—সবার পদচারণায় মুখর হবে পথ। মিছিলটি উদয়ন স্কুল হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ হবে।
প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে সকাল সোয়া ৬টায় ‘স্মৃতি চিরন্তন’ চত্বরে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি।
একুশ মানে শুধু একটি দিন নয়—একটি ইতিহাস, একটি আত্মত্যাগ, একটি ভাষার জন্য অমর ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করে আবারও প্রস্তুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—শ্রদ্ধা জানাতে ভাষা শহিদদের, মাথা নত করে স্মরণ করতে তাঁদের ত্যাগ।

