ঈশ্বরগঞ্জে দুধে পানি, অভিযানে মিলল প্রমাণ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরবাজারে বিকেলটা ছিল অন্য দিনের মতোই ব্যস্ত। কাঁচামাটিয়া সেতু সংলগ্ন দুধ মহালে ক্রেতারা ভিড় করছিলেন প্রতিদিনের মতো। রমজান সামনে, তাই দুধের চাহিদাও বেড়েছে। কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দিয়েও অনেকে ভালো দুধ পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ কয়েক দিন ধরেই ঘুরছিল বাজারজুড়ে।
বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই হাজির হয় উপজেলা প্রশাসনের দল। নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক বেদেনা আক্তার। সঙ্গে ছিলেন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এ কে এম হারুন অর রশিদ। আধুনিক যন্ত্র দিয়ে একের পর এক দুধ পরীক্ষা করা হচ্ছিল। আশপাশে কৌতূহলী মানুষ জড়ো হচ্ছিলেন।
পরীক্ষার ফল আসতেই ফিসফাস শুরু হয়। ১৫–১৬ কেজি দুধে পানি মেশানোর সত্যতা মিলেছে। যেসব দুধে ভেজাল পাওয়া গেল, সেগুলো আর বিক্রির সুযোগ পায়নি—সবার সামনে মাটিতে ঢেলে দেওয়া হলো। সাদা দুধ মাটির সঙ্গে মিশে যেতে যেতে যেন কারও লোভ, কারও প্রতারণাও মিশে গেল ধুলোর সঙ্গে।
শুধু দুধ ফেলে দেওয়াতেই থেমে থাকেনি অভিযান। ভবিষ্যতে যেন এমন কাজ আর না হয়, সে জন্য অভিযুক্ত দুই বিক্রেতার মাথায় সামান্য দুধ ঢেলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। উপস্থিত অনেকেই মোবাইলে সেই দৃশ্য ধারণ করেন। পরে বিডি লিমন রহমান নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ১ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা ছিল, ব্রিজ সংলগ্ন দুধ ব্যবসায়ীদের ওপর বাজার কমিটির নেতৃত্বে আধুনিক মেশিন দিয়ে দুধ পরীক্ষা করে হাতেনাতে পানি মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। মো. জহির আলম মন্তব্য করেন, “আমরা দুর্ভাগা জাতি, ১০০ টাকা কেজি দুধ কিনেও ভালো পাওয়া যায় না। ধন্যবাদ পরিদর্শনকারী টিমকে।”
পরিদর্শক বেদেনা আক্তার পরে জানান, মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা অভিযানে যান। “রোজা শুরুর আগে থেকেই অভিযোগ পাচ্ছিলাম। ১৫–১৬ কেজি দুধে পানি পাওয়া গেছে। বাকি বিক্রেতাদের দুধ ভালো ছিল। পানিমিশ্রিত দুধ ফেলে দেওয়া হয়েছে। আর জীবনে যেন এমন কাজ না করে, সে জন্য দুজনের মাথায় সামান্য দুধ ঢেলে দেওয়া হয়েছে,”—বললেন তিনি।
বিকেলের সেই ঘটনাটা বাজারে শুধু এক দিনের অভিযান ছিল না; ছিল একটি বার্তা। ক্রেতার টাকায় ভেজাল মিশিয়ে লাভের পথ হয়তো সহজ, কিন্তু একদিন না একদিন সত্য ধরা পড়েই। আর তখন সাদা দুধও হয়ে ওঠে লজ্জার চিহ্ন।

