আটলান্টিকের গর্জনরত ঢেউয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে এক অনন্য সৌন্দর্য—Hassan II Mosque। উত্তর আফ্রিকার দেশ Morocco-এর সমুদ্রতীরবর্তী শহর Casablanca-এ অবস্থিত এই মসজিদ যেন আধুনিক প্রযুক্তি আর প্রাচীন ইসলামি স্থাপত্যশৈলীর এক অপূর্ব মেলবন্ধন। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, বিশাল সমুদ্রের ঢেউগুলো মসজিদের দেয়াল ছুঁয়ে পরম মমতায় আছড়ে পড়ছে—প্রকৃতি আর আধ্যাত্মিকতার নিঃশব্দ আলাপ চলছে সেখানে।
এক-তৃতীয়াংশ যেন সমুদ্রের বুকে
২২ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই মসজিদের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর অবস্থান। পুরো স্থাপনার এক-তৃতীয়াংশ নির্মিত হয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের কুল ঘেঁষে, পানির ওপর। মনে হয় যেন নীল জলের ওপর ভেসে আছে স্থাপনাটি। ভাসমান অংশে দাঁড়িয়ে মুসল্লিরা যখন নামাজ আদায় করেন, তখন সমুদ্রের ঢেউ আর দোয়ার ধ্বনি একাকার হয়ে যায়।
আকাশছোঁয়া মিনার ও রঙের খেলা
মসজিদের আরেকটি বিস্ময়—৬৯০ ফুট উঁচু বর্গাকৃতির মিনার, যা প্রায় ৬০ তলা ভবনের সমান। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনারগুলোর একটি। সবুজ টাইলস আর ক্রোমিয়ামের সূক্ষ্ম কারুকাজ রোদ আর পানির সংস্পর্শে এসে কখনো গাঢ় সবুজ, কখনো ফিরোজা, আবার কখনো নীলচে আভা ছড়িয়ে দেয়।
ফরাসি স্থপতি Michel Pinseau-এর দক্ষ পরিকল্পনায় মিনারটি এমনভাবে নির্মিত হয়েছে যে, শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকেই তা দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি আধুনিক মরক্কোর এক প্রধান ল্যান্ডমার্কে পরিণত হয়েছে।
ভালোবাসার দানে গড়া এক ইতিহাস
মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে মরক্কোর রাজা Hassan II-এর নামে। ১৯৮৬ সালে শুরু হওয়া এই বিশাল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ছিল প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার। নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশের পক্ষে এত বড় অর্থ জোগাড় করা সহজ ছিল না।
তখন রাজা দ্বিতীয় হাসানের আহ্বানে এগিয়ে আসেন সাধারণ মানুষ। প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ এবং বিভিন্ন আরব দেশ অনুদান দেন। ফলে এই মসজিদ শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি হয়ে ওঠে জনগণের ভালোবাসা, ঐক্য ও মর্যাদার প্রতীক।
আজ এই বিশাল মসজিদের ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। আটলান্টিকের ঢেউয়ের পাশে দাঁড়িয়ে তাই এটি শুধু ইট-পাথরের সৌধ নয়—এটি ইতিহাস, বিশ্বাস আর শিল্পকলার এক জীবন্ত কাব্য।

