শীতল বাতাসে ঢাকা–শেরপুর মহাসড়কের ফুলপুর ইমাদপুরের দিকে সকাল থেকে মানুষের চিৎকার আর গাড়ির হর্নের আওয়াজ মিশে চলছিল। কিন্তু বুধবার বেলা ১১টার দিকে সেই স্বাভাবিকতা এক মুহূর্তে ভেঙে পড়ে।
সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল। গাড়ির মধ্যে ছিল দেশপ্রেমে উদ্ভাসিত যোদ্ধারা, যারা নিজেদের কাজে ব্যস্ত হলেও হৃদয়ে পরিবার ও ভালোবাসার কথা ভাবছিল। ঠিক তখনই হালুয়াঘাটগামী একটি বাস, যেখানে কয়েকটি পরিবার, স্কুলছাত্র ও যাত্রীরা স্বপ্ন আর আশা নিয়ে ভ্রমণ করছিল। রাস্তার বুকে গাড়ি দুটি ধাক্কা খায়।
ধ্বংসস্তূপে গাড়ি দুটি দুমড়ে–মুচড়ে যায়। চিৎকার আর ভেঙে পড়া ধাতুর শব্দে যেন পুরো পরিবেশ থমকে যায়। এক সেনা সদস্যের জীবন এখানে থেমে যায়, আর বাসের চালকও আর কখনো তার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেনি। আহতদের মাঝে ছোট ছোট চোখে ভয় আর কষ্টের ছাপ, অভিভাবকদের ব্যথার কান্না—সবকিছু মিলেমিশে যেন এক জীবন্ত চিত্র হয়ে উঠেছিল।
ফুলপুর থানার অফিসার মো. রাশেদুল হাসান, সেনা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। মানুষদের হাত ধরে, চোখে জল ধরে, তারা আহতদের ত্রাণে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে সময় থেমে থাকেনি; মৃত্যুর খেলা, বেদনার ছায়া, এবং ভাঙা স্বপ্নের চিহ্ন সেই রাস্তায় এখনও স্পষ্ট।
সকলের মনে প্রশ্ন—কিভাবে একটি মুহূর্তে এত জীবন ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে পারে? ছোট্ট সুখের মুহূর্তগুলো, পরিবার ও প্রিয়জনদের হাসি, সবই হঠাৎ নিভে যায় এক ভয়াবহ সংঘর্ষে। এমন একটি দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবন কতটা নাজুক। সেই সেনা সদস্য এবং বাস চালকের পরিবারের জন্য বেদনা এক অপূরণীয় ক্ষত, আর আহতদের চোখে আর্তনাদ এখনো সারা শহরে অনুরণিত হচ্ছে।

