রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা শামা ওবায়েদ ইসলাম অবশেষে পেলেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। দুইবার পরাজয়ের পর তৃতীয়বারের চেষ্টায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এবার জায়গা করে নিয়েছেন মন্ত্রিসভায়। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।
ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর–২ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন শামা ওবায়েদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৯৯৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর শাহ মো. আকরাম আলী পান ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট।
শামা ওবায়েদের রাজনৈতিক পথচলার পেছনে রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য। তাঁর বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান একই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারই তাঁকে রাজনীতিতে নিয়ে আসে। তবে নিজের অবস্থান গড়তে তিনি দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে সহযোগী সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন।
২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও জয় পাননি তিনি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ, দলীয় নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখা এবং পারিবারিক গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি নারী নেতৃত্বের কারণে ভোটারদের সমর্থন তাঁর দিকে ঝুঁকেছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।
প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবরে ফরিদপুরের নগরকান্দা সদর বাজারে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর হাত ধরে দীর্ঘদিনের অবহেলিত নগরকান্দা ও সালথার উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।
কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রিধারী শামা ওবায়েদ নির্বাচনী প্রচারণায় বাবার অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া, শিক্ষা ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছিলেন। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তাঁর আয় ছিল ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা এবং আয়কর দিয়েছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭২১ টাকা। তাঁর প্রদর্শিত মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার ৮০৬ টাকা।
তিনি আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও ধারণ করেছিলেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গত বছরের ২০ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সংসদ সদস্য থেকে প্রতিমন্ত্রী—শামা ওবায়েদের এই উত্থান এখন ফরিদপুরের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

