রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রাম পুলিশ নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে ভেলু গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ দিলরুবার উত্থান, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে।
স্থানীয় সূত্র ও সরকারি নথিপত্রে জানা গেছে, দিলরুবার কর্মজীবনের ধারাবাহিক অগ্রগতি রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে হয়েছে। তিনি জেলা মহিলা লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং মোছাঃ নাছিমা জামানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
প্রথমে ভেলু কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন, পরে সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের নারী উদ্যোক্তা, এবং সর্বশেষ গ্রাম পুলিশ পদে নিয়োগ পাওয়ার পরও তিনি নারী উদ্যোক্তা পরিচয়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা ও হয়রানির মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা না নেওয়া, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং মামলা করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ ব্যক্তিদের সুবিধা প্রদান এবং থানায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে দিলরুবার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সচেতন নাগরিকরা জানিয়েছেন, যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়—বরং ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনসেবার কাঠামোকে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। তারা সুশাসন নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার নথি প্রকাশ এবং অভিযোগসমূহের স্বচ্ছ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

