Bangla FM
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • কলাম
  • ভিডিও
  • অর্থনীতি
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • প্রবাস
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
Bangla FM

নিকোলাস কোপার্নিকাস অন্ধকার ও অজ্ঞতার যুগে আলো হয়ে জন্ম নেওয়া এক কিংবদন্তি জ্যোতির্বিজ্ঞানী

Bangla FM OnlinebyBangla FM Online
১২:৩৪ pm ১৭, ফেব্রুয়ারী ২০২৬
in Semi Lead News, কলাম
A A
0

সৈয়দ আমিরুজ্জামান

“To know that we know what we know, and to know that we do not know what we do, that is true knowledge.”

–Nicolaus Copernicus.

“পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।” – এই বৈপ্লবিক মতবাদের প্রবক্তা, ১৬ শতকের অন্যতম গণিতবিদ, পদার্থবিদ, আধুনিক পণ্ডিত, অনুবাদক, গভর্নর কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদ ও কিংবদন্তী জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপার্নিকাসের ৫৫৪তম জন্মবার্ষিকী ১৯ ফেব্রুয়ারি।

নিকোলাস কোপার্নিকাস অন্ধকার ও অজ্ঞতার যুগে আলো হয়ে জন্ম নেওয়া এক মহান বিজ্ঞানী। যিনি পর্যবেক্ষণ করে গেছেন আকাশের গ্রহ, তারার গতিবিধি। লিখে গেছেন সে সময়কালে প্রচলিত ভুল ধারণার বিরুদ্ধে। কিন্তু সে সময়কালের তথাকথিত জ্ঞানীদের বিরুদ্ধে যায় এমন কথা বলা সহজ ছিল না তখন। সে সময় পৃথিবী ও সূর্য সম্বন্ধে ধারণা আজকের মতো ছিল না। সকলে মনে করতো পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ উপগ্রহ আবর্তিত হয়। কিন্তু কোপার্নিকাস তার পর্যবেক্ষণ থেকে বলেছেন, সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ উপগ্রহ আবর্তিত হয়। তিনিই প্রথম বলেছিলেন, “পৃথিবী নয়, সূর্যই হলো সৌরজগতের কেন্দ্র। সূর্যই পুরো সৌরজগতকে আলোকিত করে।”

জন্ম

তাকে বলা হয়ে থাকে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক। ১৪৭২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পোল্যান্ডের টোরুন শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জার্মান বংশোদ্ভূত এক ধনী পরিবারের সন্তান। বাবা নিকোলাস কোপার্নিগ ছিলেন একজন প্রভাবশালী বণিক। চার ভাইবোনের মধ্যে কোপার্নিকাস ছিলেন সবার ছোট। মাত্র দশ বছর বয়সে পিতাকে হারান। পিতার মৃত্যুর পর মামার বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করেন।

শিক্ষা

১৪৯১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ক্রাকৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। সেখানে জ্যোতির্বিজ্ঞানে পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। গণিতশাস্ত্র ও আলোকবিজ্ঞানও ছিল তার অধ্যয়নের বিষয়। কিন্তু তার মামা চাইলেন আজীবন আর্থিক সচ্ছলতার জন্য ভাগ্নে ফ্রাউয়েনবার্গের গির্জায় যাজকের পদ গ্রহণ করুক। যাজকের পদটি শূন্য না হওয়া পর্যন্ত সময়কালে যেন তিনি সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারেন সেজন্য তাকে ইতালির বোলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান। চিকিৎসা, আইন ও ধর্মশাস্ত্রে অধ্যয়নের জন্য তিনি সেখানে গেলে পরিচয় হয় প্রখ্যাত দার্শনিক প্লেটো এবং সে সময়ের বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডোমেনিকোর সাথে। গুণী ব্যক্তির সান্নিধ্যই তাকে উদ্বুদ্ধ করে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি।
সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি গ্রিক ভাষা, গণিতশাস্ত্র ও প্লেটোর রচনাবলী অধ্যয়ন করেন। জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত তৎকালীন চিন্তাভাবনার সাথেও পরিচিত হন। বোলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি প্রফেসর ডোমেনিকোর সাথে জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের কাজে যুক্ত ছিলেন। সেখানে থাকাকালেই ১৪৯৭ খ্রিষ্টাব্দে তার প্রথম মহাকাশ পর্যবেক্ষণের কথা লিপিবদ্ধ হয়।

কর্ম

অধ্যয়ন শেষে কোপার্নিকাস স্থায়ীভাবে চলে আসেন তার জন্মভূমিতে। তখন তার বয়স ৩০ বছর। ওয়ার্মিয়াতে তিনি জীবনের বাকি ৪০ বছর কাটিয়েছিলেন। এরপর ১৫১২ সালে মামার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন। এরপর হন ফ্রুয়েনবার্গ গির্জার একনিষ্ঠ কর্তা।

উচ্চতর শিক্ষা শেষে তিনি রোম বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। সে সময় তার মনে মহাবিশ্ব সম্বন্ধে টলেমির সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে সন্দেহ জাগে। পৃথিবী এই মহাবিশ্বের মাঝে অবস্থিত, পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্য, তারা আর চাঁদ ঘুরছে- এই নিয়মে তিনি কিছু ত্রুটি খুঁজে পান। ক্লাসে যখন ছাত্রদের টলেমির সিদ্ধান্ত পড়াতেন, তখন তার বার বার মনে হতো তিনি ভুল শিক্ষা দিচ্ছেন।

প্রকৃত সত্যকে জানবার জন্য এ বিষয়ে আরো গভীর অধ্যয়ন শুরু করলেন। পরস্পর বিরোধী এসব অভিমতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তার মনে হলো প্রকৃত সত্যকে উদ্ঘাটন করতে হবে। যে বিষয়ে নিজেই সন্দিহান কেমন করে তা ছাত্রদের পড়াবেন? এরই মাঝে এক ছাত্র তাকে প্রশ্ন করে বসলো, “স্যার, আপনি যা বলছেন তা কি বিশ্বাস করেন?” দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন কোপার্নিকাস। মানসিক পীড়ায় শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে দিলেন। এখান থেকে শুরু হলো তার মনে উদ্রেক হওয়া জিজ্ঞাসার উত্তর খোঁজার পালা।

গবেষণা

সে সময় টেলিস্কোপ ছিল না, তাই সাধারণ পর্যবেক্ষণ আর গাণিতিক পদ্ধতির উপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় ছিল না। ফ্রুয়েনবার্গ গির্জায় থাকাকালে একাকী তিনি চালিয়ে যান গবেষণা ও অনুসন্ধানের কাজ। এক্ষেত্রে কারো কাছ থেকে সহযোগিতা বা পরামর্শ তিনি পাননি। গির্জাটি ছিল একটি পাহাড়ের উপর। এর কাছাকাছি একটি গম্বুজ থেকেই নিকোলাস তার পর্যবেক্ষণ চালাতেন। গির্জার দেওয়ালে একটি উঁচু চূড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি চন্দ্র, সূর্য ও গ্রহরাজির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেন। খালি চোখেই নিজের পর্যবেক্ষণের ফলাফল লিপিবদ্ধ করে রাখতেন এবং সময়ে সময়ে সেগুলো প্রকাশ করতেন। তার ব্যক্তিগত পাঠাগারের বইয়ের পৃষ্ঠাতেও এরকম কিছু মন্তব্য লিপিবদ্ধ পাওয়া গেছে।

উদ্ভাবন

তখন প্রচলিত ছিল টলেমির পদ্ধতি। একনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি অনুধাবন করতে পারেন টলেমির ব্যাখ্যায় ত্রুটি আছে। বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর মেলে না টলেমির মডেল থেকে। টলেমির ধারণাকে ফেলে হিসেব করে দেখলেন সূর্যকে কেন্দ্রে রাখলে সকল কিছুর হিসাব মিলে যায়। পৃথিবীকে গায়ের জোরে কেন্দ্রে বসালেই অযথা জটিলতা তৈরি হয়।

পরবর্তীতে তার পথ ধরে ধীরে ধীরে আলোকিত করেছেন টাইকো ব্রাহে, কেপলার, ব্রুনো এবং গ্যালিলিও গ্যালিলিরা। তারা ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়ে সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। কোপার্নিকাস বলেন, “সূর্যের চারিদিকে পৃথিবী ঘোরে বলে ঋতু পরিবর্তন হয়। আর পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর আবর্তিত হয় বলেই দিন—রাত্রি হয়।” তিনিই প্রথম বলেন, সূর্যই সমগ্র সৌরজগতকে আলোকিত করে।

রোষানলে কোপার্নিকাস

তার গবেষণালব্ধ মতবাদসমূহ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ করার সাহস করেননি। কারণ তিনি ছিলেন গির্জার যাজক। তার মতবাদ প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিরোধী। তার বিপ্লবাত্মক মতবাদ লিপিবদ্ধ হওয়ার পরেও দীর্ঘ তেরো বছর অপ্রকাশিত রাখতে হয়। ১৫১০ থেকে ১৫১৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কোপার্নিকাস তার নতুন মতবাদের সংক্ষিপ্তসার হিসাবে একটি পান্ডুলিপি প্রস্তুত করেন। ১৫১৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্যক্তিগত পর্যায়ে তিনি তার বন্ধুদের মাঝে প্রচার করেন।

বছর পেরোতে লাগলো, নকশা একেঁ আর গাণিতিক হিসাব করে তিনি তার যুক্তিকে বিকশিত করতে লাগলেন। ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দে রোমের পোপ সপ্তম ক্লিমেন্টের সামনে এগুলো নিয়ে বক্তৃতাও করলেন এবং তার সমর্থনও লাভ করলেন।

তার মতবাদ প্রকাশের জন্য ১৫৩৬ খ্রিষ্টাব্দে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেলেন কোপার্নিকাস। তার শিষ্য রেটিকাসের প্রচেষ্টায় রচনা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।পান্ডুলিপিটি মুদ্রণের জন্য জার্মানির নুরেমবার্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পায় রেটিকাস। মার্টিন লুথার, ফিলিপ মেলান্সথন ও অপরাপর সংস্কারকদের বাঁধার কারণে রেটিকাস নুরেমবার্গ ত্যাগ করে লাইপজিগে গেলেন এবং প্রকাশনার দায়িত্ব আন্দ্রিয়াস ওসিয়ান্ডারের হাতে তুলে দিলেন। সমালোচনার ভয়ে ওসিয়ান্ডার নিজ দায়িত্বে গ্রন্থের সাথে একটা মুখবন্ধ জুড়ে দিলেন। তিনি ভাবলেন, বই প্রকাশিত হলে কোপার্নিকাসের সাথে তাকেও বিপদগ্রস্ত হতে হবে। তাই বইয়ের প্রথমে লিখলেন- এ বইয়ের বিষয়বস্তু পুরোপুরি সত্য নয়। অনুমানের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে।

এ কথাগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি সত্য-মিথ্যার একটা সংশয়াচ্ছান্ন ধারণার সৃষ্টি করলেন যাতে প্রয়োজনে বইটিতে উপস্থাপিত তথ্য মিথ্যা বলে চালানো যেতে পারে। শুধু তা-ই নয়, তিনি ইচ্ছেমতো বই থেকে বিভিন্ন নাম তুলে নিলেন। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল আরিস্টার্কাসের নাম, যিনি প্রথম গভীর বিশ্বাসের সাথে বলেছিলেন, সূর্য স্থির পৃথিবী গতিশীল।

বিপ্লব

পাশ্চাত্যের চিন্তাধারার ক্ষেত্রে এবং আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানকে বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে ১৫৪৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে প্রকাশিত হল De revolutionibus orbium coelestium (মহাজাগতিক বস্তুগুলোর ঘূর্ণন)। ছয়খন্ডে রচিত গ্রন্থটি তৃতীয় পোপের সম্মানে উৎসর্গ করে তিনি বলেন, “গণিতশাস্ত্র বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলে কেউ যেন গ্রন্থটির সমালোচনা না করেন।”

বিশ্বব্রহ্মান্ডের কেন্দ্রীয় অবস্থান থেকে পৃথিবীর সিংহাসনচ্যুতির মতবাদ সৃষ্টি করেছিল প্রচণ্ড আঘাত। পৃথিবীকে আর সৃষ্টির আদি বলে গণ্য করা গেল না। ব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্রে সকল পরিবর্তন ও বিনাশের উৎস হিসেবে পৃথিবী আর পরিগণিত হতে পারল না। প্রাচীন কর্তৃত্বের পুরো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সফল চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য দরকার ছিল মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের দার্শনিক ধারণার পরিবর্তন। কোপার্নিকাসের তত্ত্ব এনে দিল সেই পরিবর্তন। একে যথার্থই ‘কোপার্নিসীয় বিপ্লব’ বলে অভিহিত করা যায়। মহান জার্মান কবি গ্যেটের ভাষায়- সকল আবিষ্কার ও অভিমতের মধ্যে আর কোনোটাই মানব মনের উপর এতটা প্রভাব ফেলতে পারেনি, যতটা ফেলেছিল কোপার্নিকাসের মতবাদ।

জীবনের শেষদিকে

তার বইটি যখন প্রকাশ হয় তখন তিনি ছিলেন পক্ষাঘাত ও মানসিক রোগে আক্রান্ত। বইটি ছাপা অবস্থায় তার কাছে এসে পৌঁছলে তখন তাঁর পড়ে দেখার মতো অবস্থা ছিল না। তিনি শুধু দু’হাতে বইটি কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁর মৃত্যু হয়।

তার বইয়ের মধ্যে দিয়ে তিনি যে সত্যের প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, তার উপর ভিত্তি করে গ্যালিলিও, কেপলার, নিউটন, আইনস্টাইন জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন নতুন দিগন্তকে উন্মোচন করেছেন। এ গ্রন্থের মাধ্যমে দেড় হাজার বছরের টলেমির ভূকেন্দ্রিক মতবাদ ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়। কোপার্নিকাস তার গ্রন্থে বলেন, “পৃথিবী থেকে গ্রহ-নক্ষত্রের গতিপথ অনেক বেশি জটিল হওয়ার কারণ পৃথিবীর নিজের ঘূর্ণন। তাই সূর্য থেকে দেখলে পৃথিবীকে অপেক্ষাকৃত সরল ও একটি সাধারণ গ্রহ বলে মনে হবে।” তিনি আরো বলেন, “ঋতু পরিবর্তন ঘটে সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর আবর্তনের কারণে।”
তার এ মতবাদ প্রচার করার কারণে জিওর্দানো ব্রুনোকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়।

মৃত্যু

১৫৪৩ সালের ২৪ মে ৭০ বছর বয়সে তিনি মারা যান। পোল্যান্ডের বাল্টিক কোস্টের ফ্রমব্রোক ক্যাথেড্রালের মেঝের নিচে তাকে সমাহিত করা হয়। নাম-পরিচয়হীনভাবে অবহেলার সাথে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। সে সময়ের ধর্মযাজকেরা কোপার্নিকাসের নতুন তত্ত্ব মেনে না নিলেও পরে তার গবেষণা সত্য প্রমাণিত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

মৃত্যুর ৪৬৭ বছর পর পুনরায় বীরের মর্যাদায় সমাহিত কোপার্নিকাস

মৃত্যুর ৪৬৭ বছর পর তাকে পুনরায় বীরের মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এভাবেই যুগে যুগে বিপ্লব সৃষ্টি করে যাওয়া মানুষেরা স্বীকৃতি পান। সে স্বীকৃতি হতে পারে তাৎক্ষণিক কিংবা কিছুটা বিলম্বে।

বৈপ্লবিক মতবাদের প্রবক্তা, ১৬ শতকের অন্যতম গণিতবিদ, পদার্থবিদ, আধুনিক পণ্ডিত, অনুবাদক, গভর্নর কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদ ও কিংবদন্তী জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপার্নিকাসকে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—

কোপার্নিকাস
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

অন্ধকার যুগে যখন জমাট কুসংস্কার,
চিন্তার আকাশ জুড়ে অবরুদ্ধ দ্বার,
জ্ঞান যেন নির্বাসিত ধর্মের প্রাচীরে,
মানুষ বন্দী ছিল ভয়ের শিকল ঘিরে—
সেই ক্ষণে উত্তরে, টোরুন নগরীতে,
জন্ম নিল এক শিশু নীরব আলোকভীতে।

চারদিকে গির্জার ঘণ্টাধ্বনি বাজে,
ধূপের গন্ধ ভাসে প্রার্থনার সাজে,
তবু তার দৃষ্টিতে অন্য এক জ্যোতি,
তারারাও যেন দেয় অচেনা বার্তাটি।
রাত্রির আকাশে সে চেয়ে থাকে স্থির,
গ্রহদের গোপন পথ করে নীরব ধীর।

নাম তার নিকোলাস— ইতিহাসে খ্যাত,
চিন্তার বিপ্লবে যিনি সর্বাধিক প্রাতঃস্মরণীয় প্রভাত।
পৃথিবী নয় কেন্দ্র— উচ্চারিল বাণী,
সূর্যই মহাজগতের প্রজ্জ্বলিত কেন্দ্র।
এই একটি বাক্যে কেঁপে উঠিল ধরা,
সহস্র বছরের ভুলে ধরিল সে ঘা।

ক্রাকৌর পাঠশালায় জাগে তার মন,
গণিতের রেখায় খুঁজে নক্ষত্রের গুণ।
বোলোনার প্রাঙ্গণে দর্শনের আলো,
ডোমেনিকোর সাথে আকাশ দেখা ভালো।
গির্জার গম্বুজে দাঁড়িয়ে একাকী,
নক্ষত্রগণনায় রাত্রি করে ফাঁকি।

টেলিস্কোপ ছিল না— খালি চোখ ভরসা,
সংখ্যার ভেলায় ভাসে যুক্তিরই ভাসা।
দেয়ালে আঁকে সে গ্রহদের পথ,
হিসেবে মিলায়ে দেখে জটিলতার রথ।
টলেমির বৃত্ত যেন জালে বাঁধা ঘূর্ণি,
সূর্য বসালে কেন্দ্রে মেটে সকল ধাঁধাঁ।

দিন কেন আসে, কেনই বা রাত্রি,
ঋতুরা বদলায় কিসেরই মাত্রি—
পৃথিবী নিজ অক্ষে ঘোরে অবিরাম,
সূর্য প্রদক্ষিণে বছর পায় নাম।
সহজ যে সত্য ছিল চোখেরই কাছে,
অভ্যাসের অন্ধত্বে মানুষ তাকে নাচে।

শ্রেণিকক্ষে যখন পড়ান ভূকেন্দ্র কথা,
মনে জাগে প্রশ্ন— এ কেমন ব্যথা!
“স্যার, আপনি কি বিশ্বাস করেন এ বাণী?”
শিষ্যের প্রশ্নে কাঁপে অন্তরখানি।
সত্যের সন্ধানে ত্যাগিলেন আসন,
জিজ্ঞাসাই হলো তার জীবনের শাসন।

তেরোটি বছর নীরবতার বোঝা,
পাণ্ডুলিপি ঘিরে ভয়-আশঙ্কা রোজা।
বন্ধুমহলে শুধু সীমিত প্রচার,
সত্যের উচ্চারণ তখনো অন্ধকার।
রেটিকাস এলো একদিন সাহসে ভরা,
বলিল— “গুরু, দিন বিশ্বকে ধরা।”

নুরেমবার্গ পথে যাত্রা পাণ্ডুলিপি,
ওসিয়ান্ডারের কৌশল— সংশয়ের নীপি।
মুখবন্ধ জুড়ে দিল দ্বিধার ছায়া,
তবু বইটি হলো জ্ঞানের মহিমায় মায়া।
De revolutionibus— ইতিহাসের গ্রন্থ,
মহাকাশচিন্তায় নবযুগের কান্ত।

পৃথিবী সিংহাসনচ্যুত কেন্দ্রমঞ্চ হতে,
মানব-অহংকার নামিল ধীরে তলে।
ব্রহ্মাণ্ড বিশাল, মানুষ ক্ষুদ্র কণা,
তবু জিজ্ঞাসাতেই জ্বলে জ্ঞানের দীপনা।
গ্যেটের ভাষায় সে আবিষ্কার মহৎ,
মানবমনে দিল নব দিগন্তের রথ।

ব্রুনোর আগুনে দাউদাউ শিখা,
গ্যালিলিওর কণ্ঠে সত্যের দীক্ষা,
কেপলারের উপবৃত্ত, নিউটনের বল,
আইনস্টাইনের বক্রতায় সময়ের চল—
সব পথের উৎসে এক সূর্যনাম,
কোপার্নিকাস যেন প্রভাতের ধাম।

শেষ জীবনে যখন পক্ষাঘাতগ্রস্ত,
হাতে এলো গ্রন্থ— স্বপ্নেরই অস্ত্র।
নীরব আঙুলে ছুঁয়ে দেখিল পাতা,
কিছুক্ষণ পরেই নিভিল জীবনরথটা।
তবু সে মৃত্যু নয়, নবযুগের জন্ম,
সূর্যকেন্দ্রিকতায় মুক্ত চিন্তার সম্ম।

ফ্রমব্রোক গির্জায় মেঝের তলে,
নামহীন সমাধি নীরবতার দলে।
শতাব্দী পেরিয়ে সম্মানের শির,
ফিরিল তার কীর্তি ইতিহাসের নীর।
চারশো ঊনসত্তর বছর পর,
বীরের মর্যাদায় পুনরায় ঘর।

অজ্ঞতার রাত যতই হোক ঘন,
একটি দীপই পারে বদলাতে গগন।
পৃথিবী ঘোরে আজো সূর্যের তলে,
তারই বাণী বাজে বিজ্ঞানীর কলে।
জানার যে সাহস, সন্দেহের গান,
তাই তো জ্ঞানের প্রথম সম্মান।

হে সূর্য-সন্তান, হে প্রভাত-পুরুষ,
তোমারই আলোয় মুছে যায় বিভ্রান্তির ধূসর।
মানুষ শিখেছে প্রশ্ন করতে,
বিশ্বাস ভেঙে সত্য গড়তে।
অন্ধকার যুগে যে জ্বেলেছিলে দীপ,
তোমার নামেই জাগে জ্ঞানের নীড়।

পৃথিবী আজও ঘোরে নীরব ছন্দে,
তোমার সমীকরণ মহাকালের বন্ধে।
যতদিন আকাশে সূর্য উঠিবে,
মানুষ ততদিন তোমাকেই স্মরিবে।
কারণ তুমি শিখিয়েছ— জ্ঞান মানে পথ,
সত্যের জন্যে সাহসই রথ।


সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।
E-mail : syedzaman.62@gmail.com

ShareTweetPin

সর্বশেষ সংবাদ

  • ২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা করছে বিএনপি সরকার
  • দুমকিতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
  • বাংলাদেশে একজন মন্ত্রীর বেতন ও সুযোগ-সুবিধা
  • নড়াইলে বিএনপি নেতার বাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
  • কক্সবাজার জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুর ইসলাম (রাশেদ মানিক)
নির্বাহী সম্পাদক: মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ

বাংলা এফ এম , বাসা-১৬৪/১, রাস্তা-৩, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফোন:  +৮৮ ০১৯১৩-৪০৯৬১৬
ইমেইল: banglafm@bangla.fm

  • Disclaimer
  • Privacy
  • Advertisement
  • Contact us

© ২০২৬ বাংলা এফ এম

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • প্রবাস
  • ভিডিও
  • কলাম
  • অর্থনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • চাকুরি
  • অপরাধ
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • ফটোগ্যালারি
  • ফিচার
  • মতামত
  • শিল্প-সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়

© ২০২৬ বাংলা এফ এম