গভীর রাত। চারপাশ তখনো নিস্তব্ধ। হঠাৎ বিকট এক শব্দে কেঁপে ওঠে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ডাকবাংলো এলাকা। সময় তখন রাত তিনটা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় কনটেইনারবাহী একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে আঘাত করে উল্টে যায়। আর তাতেই শুরু হয় দীর্ঘ ভোগান্তি।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাস ও লরিটি পাল্লা দিয়ে দ্রুতগতিতে চলছিল। একপর্যায়ে বাসটি লরিটিকে ধাক্কা দিলে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে সজোরে আঘাত করে। মুহূর্তেই কনটেইনারসহ লরিটি উল্টে পড়ে ঢাকামুখী লেনের ওপর। ফলে ওই লেন দিয়ে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সকাল সাতটার দিকে কিছু গাড়ি চট্টগ্রামমুখী লেন দিয়ে চলাচল শুরু করলে দুই দিকেই যানজট ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে যানজট দক্ষিণে বড়তাকিয়া বাজার, হাদিফকিরহাট ও নিজামপুর ছাড়িয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত হয়।
মঙ্গলবার ভোর ছয়টা থেকে সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, উল্টে থাকা লরিটি মহাসড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে পড়ে আছে। এক পাশ দিয়ে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে। কোথাও বাসের যাত্রীরা নেমে হাঁটছেন, কোথাও আবার ট্রাকচালকেরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ট্রাকচালক মাইনুদ্দিন খান বলেন, তার গাড়ির সামনেই বাস ও লরিটি দ্রুতগতিতে চলছিল। “হঠাৎ বাসটি লরিটিকে ধাক্কা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে লরিটি সড়ক বিভাজকে আঘাত করে উল্টে যায়। এরপর থেকেই যানজট শুরু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ে চালক পালিয়ে গেছেন,” জানান তিনি।
দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরাও। ঢাকামুখী একটি বাসের যাত্রী নুরুল আমিন চিকিৎসার জন্য ঢাকা যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “সীতাকুণ্ডে আসার পর থেকেই গাড়ির গতি কমে যায়। সেখান থেকে মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজার পর্যন্ত আসতে আড়াই ঘণ্টা লেগেছে। শুনেছি সামনে লরি উল্টে আছে। কখন যে ছাড়বে, জানি না।”
দুর্ঘটনাস্থলে থাকা জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানটি উদ্ধারে কাজ চলছে। একই সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ সদস্যরা চেষ্টা করছেন। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাতের একটি মুহূর্তের অসতর্কতা—আর তাতেই ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত থমকে গেল দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়ক।

