অমৃত জ্যোতি রায় সামন্ত, বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশর সর্বশেষে ঘোষিত ৪৯৫তম উপজেলা সুনামগঞ্জের মধ্যনগর।এখানে শুধুমাত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সেবাদান ছাড়া বাকী সবগুলোই দপ্তরেই রয়েছে ঢিলেঢালা সেবা।অফিস থাকলে লোকবল নেই।অধিকাংশ দপ্তরেই অতিরিক্ত দায়িত্বে চলছে আংশিক সেবাদান।দৃশ্যমান নেই কোন অবকাঠামো বা স্থাপনার।
২০২১সালে প্রশাসনিক পুনবিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি নিক্যারের ১১৭তম বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী(মধ্যনগর সদর,চামরদানী,বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ও বংশীকুন্ডা উত্তর)চারটি ইউনিয়নের ৭৯টি মৌজা ও প্রায় ২শ’টির অধিক গ্রামে দু’লক্ষাধিক জনমানুষ।ভারত মেঘালয় রাজ্যের পাদদেশে উপজেলাটিতে রয়েছে হিন্দু, মুসলিম,গাঢ়ো,হাজং সম্প্রদায় লোকজনের বসবাস।
উপজেলাটি গঠিত হওয়ার প্রায় অর্ধদশক (৫বছর) সময় চলমান থাকলে দৃশ্যমান হয়নি কোন স্থাপনার।নামমাত্র কয়েকটি কক্ষে চলছে আংশিক কার্যক্রম এখানে রায়েছে জোড়াতালির জনবল।যাহার অধিকাংশই চলছে অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে।শুধুমাত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে মাও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ভবণ গুলো। যাহাতে অস্থায়ী ভাবেই চলমান রয়েছে সেবাদান কার্য্যক্রম।এছড়াও মধ্যনগর বিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনের কয়েকটি কক্ষকে ব্যবহার করা হচ্ছে অস্থায়ী ভাবে।
যেখানে ২৩পদের অনূকূলে ২১২জনেরো অধিক কর্মকর্তা কর্মচারী থাকার কথা কিন্তু অধিকাংশ জনগুরুত্বপুর্ণ পদে হয়নি সৃজন।এরমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কর্মকর্তা, ভূমি কমিশনার(এ্যাসিল্যান্ড), কৃষি কর্মকর্তা,জনস্বাস্থ্য,প্রাণী সম্পদ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ হয়নি সৃজন ও পদায়ন।যা এখনো ধর্মপাশা উপজেলার অধীনস্থই রয়েগেছে।
বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,প্রকল্প বাস্তবায়ন,পাউবো উপ প্রকৌশলী,প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা,সমবায় কর্মকর্তা,আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা নিযুক্ত থাকলেও নেই পর্যাপ্ত জনবল।
যার দরুন এখন পর্যন্ত প্রাপ্তসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। স্বাবলম্বী সেবাগ্রহিতাগণ প্রচুর অর্থব্যায় করে পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশায় গিয়ে নিজকার্য্য সম্পাদন করেন।এতে করে বাড়তি অর্থ ও সময় অপচয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। অনুসন্ধানে জানা যায় এখন পর্যন্ত চামরদানী ইউনিয়নের নন্দীপুর সহ আরো কয়েকটি মৌজা অনলাইনের আওতায় আসেনি।যার দরুণ নামজারি করতে ভুগান্তি পোহাচ্ছেন সেবা গ্রহনকারী অনেকেই।
এসব ডিলেঢালা কার্যক্রম থেকে পরিত্রান পেতে বাকী থাকা সকল দপ্তরে পদের সৃজন,পদায়ন,পর্যাপ্ত লোকবল নিযুক্ত এবং দ্রুততা সুদৃষ্টির সহিত অবকাঠামো নির্মাণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট জোরদাবী জানিয়েছেন উপজেলার ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।

