ঢাকার কোলাহল পেরিয়ে মানিকগঞ্জের অরঙ্গবাদ এলাকায় সম্প্রতি যাত্রা শুরু করেছে নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী–এর রেস্টুরেন্ট ‘চাপওয়ালা শ্বশুরবাড়ি’। জমজমাট পরিবেশ, পরিবারের সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন—সব মিলিয়ে জায়গাটি দ্রুতই স্থানীয়দের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছিল।
কিন্তু গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে সেই রেস্টুরেন্টেই ঘটে যায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, যা এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আতিকুর রহমান খান কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যান। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নারী কাস্টমারের সঙ্গে কিছু কর্মচারীর দুর্ব্যবহার ও অনৈতিক আচরণ দেখে তারা প্রতিবাদ করেন।
প্রতিবাদ থেকেই শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে কয়েকজন কর্মচারী ও তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন লোহার রড, হাতুড়ি, চাপাতি, ধারালো ছুরি, কুড়াল ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীরা রেস্টুরেন্টের সীমানা পেরিয়ে মূল সড়কের দিকে দৌড় দেন। সেখানেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন আতিকুর রহমান। পরে লাঠির আঘাতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর আতিকুরের চাচা খলিলুল রহমান খান বাদল বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রেস্টুরেন্টে একটি সন্ত্রাসী চক্রকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল এবং প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।
ঘটনার সময় রেস্টুরেন্টে উপস্থিত ছিলেন না মালিক ওমর সানী। সোমবার সকালে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সাময়িকভাবে নিয়োগ পাওয়া এক কর্মচারী কাস্টমারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন—এমন দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।
তাঁর ভাষ্য, হাতাহাতির ঘটনা রেস্টুরেন্টের ভেতরে শুরু হলেও পরে তা বাইরে গড়ায়। ছুরিকাঘাতের ঘটনা রেস্টুরেন্টের সীমানার বাইরে ঘটেছে বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একটি পারিবারিক রেস্টুরেন্টের আনন্দমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই কীভাবে সহিংসতায় রূপ নিল—সেই প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

