দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিক্ষোভ করেছে জুলাই যোদ্ধারা।
রবিবার দিনগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে জুলাই যোদ্ধারা শহরের বাসুনিয়াপট্টি আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রবেশ করে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে উত্তেজনাপূর্ণ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে একদল জুলাই যোদ্ধারা দিনাজপুর শহরের বাসুলিয়াপট্টিস্থ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা জানালা ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কার্যালয়ের আগুন ধরিয়ে দেন এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ছাত্রলীগ ধর ধর, জেলে ভর’—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে কয়েকজনকে আগুন জ্বলতে থাকা কার্যালয়ের সামনে হাততালি দিয়ে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
স্লোগানকারীদের মধ্যে হৃদয় আল আফা, মিনহাজ জামান, সুবর্ণ আবরা, মেহেদী হাসান সুমনের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে।
এর আগে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন জেলা আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কার্যালয়ের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা ‘জয় বাংলা’ ও ‘শেখ হাসিনা ভয় নেই, রাজপথ ছাড়ি নেই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং কার্যালয়ের সামনে সেলফি তোলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ খালেদ হাবিব সুমন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রহমতুল্লাহ রহমত, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাহ উদ্দিন দিলীপ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য রুহানা নিশাত বিথী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম, বীরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান, পাল্টাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও অনেকে।
নেতাকর্মীরা ৫ আগস্টের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয়টি পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান। স্থানীয়রা জানান, কার্যালয় খোলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ নূরনবী বলেন, “কার্যালয়ের দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছে। কারা স্লোগান দিয়েছে ও অগ্নিসংযোগে জড়িত ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তদন্ত করছেন। যেহেতু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে, তাই জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের হামলার পর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিন পর কার্যালয় খোলা এবং পরবর্তীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

