দীপক ইউ বাসে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন কন্নুর কোলাহলপূর্ণ রাস্তায়। ভিড়ের মধ্যে কিছুক্ষণই যেন সময় থমকে গেছে। হঠাৎ একজন নারী, শিমজিথা মুস্তাফা, মোবাইলে তাকে ধরার চেষ্টা করছে বলে ধারণ করে ভিডিও তুলল। দীপক বুঝতে পারল না, তাকে দোষী দেখানো হচ্ছে।
ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল। কমেন্ট, ট্রোল, অভিযোজন—সবই যেন তার ওপর চাপের পাহাড় হয়ে নেমে এল। বন্ধুদের কাছে সে বলল, “বাসে ভিড় ছিল, আমি কিছুই দেখিনি।” কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার রোষ থামল না।
পরিবার জানাল, সেই সকালেই তারা দরজা ভেঙে দেখতে পেল তাদের ছেলে ঝুলন্ত। ৪২ বছরের জন্মদিনের ঠিক আগের দিনটি হয়ে গেল তার জীবনের শেষ দিন।
শিমজিথা পোস্টে লিখেছিল, এটি কোনো ভিউ বাড়ানোর চেষ্টা নয়, সামাজিক বিষয় তুলে ধরার প্রয়াস। কিন্তু এক ভুল বোঝাবুঝি এক জীবন শেষ করে দিল। সহকর্মী, বন্ধু, এমনকি সাধারণ মানুষও বলল, “একজন শান্ত, ভদ্র মানুষকে কেন এইভাবে দোষারোপ করা হলো?”
চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা জানালেন, ভিড়ের মধ্যে স্বাভাবিক সংস্পর্শ ঘটতে পারে। ভিডিও পুলিশে দেখানো হলে হয়তো দীপক বাঁচত। কিন্তু সামাজিক মিডিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া তাকে ভেঙে দিল।
এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, একটা মুহূর্তের ভিডিও বা এক পোস্টের প্রভাব কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে—কেউ ভাবতেই পারে না, একটি ‘লাইক’ বা ‘শেয়ার’ কখনো কারও জীবন শেষ করতে পারে।

