ফাটাপাড়া গ্রাম এখন থমথমে। গত শনিবার রাতের পর এখনো যেন সব নিস্তব্ধ। কালামের বাড়ির আশেপাশের মানুষরা দমবন্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যে কালামের ঘরে বোমা বানানো হচ্ছিল, সেই ঘরটি এখন ধ্বংসস্তুপে পরিণত। দুইজন প্রাণ হারিয়েছে, তিনজন আহত। আর যারা বেঁচে আছে, তাদের মধ্যে অনেকেই এখন ঘরছাড়া, আতঙ্ক আর শোকের ছায়া তাদের জীবনের ওপর নেমে এসেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, কালামের ভাই দুলালই এই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার mastermind। এক সময় সীমান্তকেন্দ্রিক ব্যবসা আর মাদক দিয়ে টাকা–পয়সার মালিক হলেও এবার সেই পথই তার পরিবারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে তার রাজনৈতিক যোগসূত্রও এই ঘটনায় জড়িয়ে গেছে। স্থানীয় জামায়াত নেতা লতিফুর রহমান বলেন, “জাহান্নামের পথে যাত্রা শুরু করা দুলাল এবার নিজেই সে পথে পা ফেলেছে। তার খেটে খাওয়া ভাই কালাম এবং পরিবারের লোকজনের জীবন এখন জাহান্নাম।”
ফাটাপাড়া গ্রামে ধানের খেতের মাঝের বালুমাটির জমি এখন শীর্ণ। সাধারণ কৃষকরা আজ তাদের প্রতিদিনের পানি দেওয়ার কাজ করতে পারছেন না। পানিশূন্য জমিতে বোরোর ধান শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মানুষ এখন শুধু আতঙ্কে দিন গুনছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার ভোটের রাতেই বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছিল। এরপরই দুলাল ও কালামের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলার জন্য বোমা তৈরি হচ্ছিল। ব্যাগে করে বোমাগুলো ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একসাথে বিস্ফোরণে সব ধ্বংস হয়ে গেল। ঘরের দেয়াল ভেঙে গেছে, টিনের চাল উড়ে গেছে।
এখন ফাটাপাড়া গ্রামবাসীর চোখে শুধু শোক আর হতাশা। তাদের ঘর নেই, জমি ভেঙে গেছে, শান্তির কোনও ঠিকানা নেই। যে ভোরে তারা ঘুম থেকে উঠে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখত, সেই ভোরও এখন আতঙ্কের প্রতীক। আর ছোট ছোট শিশুদের চোখে কেবল ভয় ও অন্ধকার—যা তাদের জীবনকাহিনীতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

