মোঃ মেছবাহুল, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-১ (ভূরুঙ্গামারী-নাগেশ্বরী) আসনে লড়াই করা তিন প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোটের কোটা পূরণ করতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ না পেলে তার জমাকৃত জামানত ফেরতযোগ্য থাকে না।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর হারিসুল বারি রনি, জাকের পার্টি-এর আব্দুল হাই এবং গণঅধিকার পরিষদ-এর বিন ইয়ামীন মোল্লা।
সরকারিভাবে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৭৮৭টি। সেই হিসেবে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ৪৪ হাজার ২২৩ ভোট। কিন্তু হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হারিসুল বারি রনি পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৮০৭ ভোট— যা নির্ধারিত সীমার নিচে।
অন্যদিকে, গোলাপ ফুল প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাই পেয়েছেন ২ হাজার ৯০৭ ভোট। ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী বিন ইয়ামীন মোল্লা পেয়েছেন মাত্র ২৩১ ভোট। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিন ইয়ামীন মোল্লা ভোটের আগেই নির্বাচনি প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে অন্য প্রার্থীকে সমর্থন জানান। তবে ব্যালট পেপারে তার নাম ও প্রতীক বহাল থাকায় প্রাপ্ত ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, আইনানুগ বিধান অনুসারেই সংশ্লিষ্ট তিন প্রার্থীর জামানত জব্দ করা হয়েছে। ফলে তারা জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাবেন না।
নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিশ্লেষণ চলছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দলগুলোর জন্য এটি একটি বড় বার্তা— ভবিষ্যতে সংগঠন শক্তিশালী করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।

