নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
রমজানের সময় সুস্থ ও সতেজ থাকতে মানসম্পন্ন খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতার ও সাহরিতে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার নেওয়াই রোজার মূল চাবিকাঠি।
পানি ও হাইড্রেটিং খাবার
সারাদিন রোজা রাখার কারণে শরীরে পানি কমে যায়। তাই ইফতার ও সাহরিতে পর্যাপ্ত পানি, তাজা ফলের রস, ডাবের পানি, লেবু বা কমলার শরবত গ্রহণ করতে হবে। চিয়া সিড ভিজিয়ে খাওয়াও হাইড্রেশনের জন্য উপকারী।

খেজুর: দ্রুত শক্তি যোগায়
খেজুর রোজাদারদের জন্য আদর্শ খাবার। এটি দ্রুত গ্লুকোজ সরবরাহ করে এবং ফাইবার থাকার কারণে হজমে সহায়ক। ইফতারে খেজুর খাওয়ার ফলে শরীরে তৎক্ষণিক শক্তি আসে।
ফল ও সবজি
ইফতারে ভাজাপোড়া না খেয়ে বরং বিভিন্ন ফল রাখাই উত্তম। তরমুজ, কলা, আপেল, আঙুর, পেঁপে ইত্যাদি ফল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন যোগায়।

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
শরীরের পেশি সুস্থ রাখতে ও দীর্ঘসময় শক্তি ধরে রাখতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ। ইফতারে সিদ্ধ ডিম, গ্রিলড বা সিদ্ধ মুরগি, বেকড মাছ, দই ও ছানা খেতে পারেন।
শর্করা ও আঁশযুক্ত খাবার
ছোলা, ডাল, ওটস ইত্যাদি দীর্ঘস্থায়ী শক্তি যোগায়। অতিরিক্ত ঝাল বা মসলা এড়িয়ে সহজভাবে খাওয়া উচিত।

বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার
কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, সূর্যমুখী বীজ ও তিসির বীজ প্রোটিন, ফ্যাট ও ফাইবারের ভালো উৎস। এটি শরীরে দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
দই ও লাবান
দই ও লাবান হজমে সহায়ক। পেট সুস্থ রাখে এবং শরীরকে সতেজ রাখে।

সেহরি ও ইফতার পরামর্শ
সেহরিতে আঁশযুক্ত খাবার ও কম তেলে রান্না করা সবজি, মাছ বা মুরগি খাওয়া উত্তম।
ইফতারে হালকা খাবার দিয়ে শুরু করুন—খেজুর বা পানি দিয়ে। মাগরিবের নামাজের পর পরিপূর্ণ খাবার গ্রহণ করুন।
রাতের খাবার হালকা রাখুন। ভাত বা রুটি, মাছ বা মুরগি, সবজি ও সালাদ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
সতর্কতা
যারা দুর্বল, ক্লান্ত, অ্যাসিডিটি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা কিডনি সমস্যায় ভুগছেন, তারা বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন। ওষুধ নিয়মিত খাওয়া জরুরি।
রমজান মানেই শুধু ইফতার-সেহরিতে মুখরোচক খাবার নয়, বরং আত্মিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য বজায় রাখা। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করলে রোজা পালন সহজ ও কার্যকর হয়।


