চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসন বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে বরাবরই ‘রাজনৈতিক ব্যারোমিটার’ হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনের ফলাফল বারবার জাতীয় রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে মিলেছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিজয়-পরাজয়ের ইতিহাস এই আসনকে শুধু একটি সংসদীয় আসন নয়, জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পরিণত করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। চট্টগ্রামের ১১টি আসনের মধ্যে দুটি ছাড়া সব জায়গায় বিএনপি জয়ী হয়েছে। যদিও ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ডের বিজয় আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত সেই দুই আসনও বিএনপির দিকে যাবে।
নির্বাচনের পর চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ লক্ষ্যণীয়। বিজয়ের আনন্দে কোনো হইহুল্লোড় বা প্রতিপক্ষকে হেনস্তার ঘটনা দেখা যায়নি। তবে স্থানীয়রা এখন শুধু নির্বাচনের ফলাফল নয়, তাদের প্রতিনিধি থেকে দৃশ্যমান কাজ প্রত্যাশা করছেন।
নাগরিকদের এই প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করেই নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা স্থানীয় সমস্যার প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন। বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী নির্বাচনের পর সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, পুরোনো চট্টগ্রামের সংকীর্ণ সড়ক, জলাবদ্ধতা, যানজট, নগর অবকাঠামোর দুর্বলতা ও নাগরিক সেবার ঘাটতি সমাধানের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা করা হবে।
প্রার্থী স্পষ্টভাবে বলেছেন, বর্ষা এলেই শহরের বিস্তর এলাকা পানিতে ডুবে যায়, ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবন থমকে পড়ে। এজন্য সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনরুদ্ধার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা জরুরি। এছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, গণপরিবহন শৃঙ্খলা, কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণ, বাজার আধুনিকায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সহায়তা ও তরুণদের কর্মসংস্থানও অগ্রাধিকার পাবে।
নিরাপত্তা ও নাগরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ—এসব উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, জনগণ প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রকল্পের অগ্রগতি ও বরাদ্দের তথ্য জানতে চান। নিয়মিত গণশুনানি, উন্মুক্ত আলোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নাগরিক আস্থা অর্জন করতে পারেন।
চট্টগ্রাম-৯-এর ইতিহাস যেমন জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে মিল রেখে চলেছে, তেমনই এখানকার মানুষ এখন কার্যকর ও দৃশ্যমান উন্নয়ন চাচ্ছেন। নির্বাচনের মাধ্যমে দেওয়া আস্থা রক্ষা করা জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব, আর সেই আস্থার কেন্দ্রবিন্দু হলো নাগরিকের প্রতিদিনের জীবন, তার ব্যবসা, নিরাপত্তা ও স্বপ্ন। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে একজন প্রতিনিধি সত্যিই ইতিহাসে স্থান করে নেন।

