সারা দেশে নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম নাগরিক কোয়ালিশন। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচনের দিন সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সফলতার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে ফলাফল প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটতে শুরু করে বলে জানায় নাগরিক কোয়ালিশন। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইতোমধ্যে শতাধিক ঘটনার সংবাদ এসেছে, যেখানে নির্বাচনে অংশ নেওয়া পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৪২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থক জসিম উদ্দীন গত শনিবার হামলার শিকার হয়ে মারা যান বলে উল্লেখ করা হয়। বহুল প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে এমন ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
নাগরিক কোয়ালিশন প্রতিটি সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

