শেখ মাসুম বিল্লাহ, রামপাল উপজেলা প্রতিনিধি
দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) সংসদীয় আসনে ধানের শীষের ঘরে ফিরেছে বিজয়। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম-এর এই জয়কে স্থানীয়রা শুধু রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখছেন।
রামপাল-মোংলা দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনপদ। মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পায়ন, নদীপথনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কৃষি ও মৎস্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীল বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। পাশাপাশি বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন-সংলগ্ন হওয়ায় পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয় এখানে বিশেষভাবে সংবেদনশীল।
উপকূলীয় জনপদের চ্যালেঞ্জ
রামপাল-মোংলা অঞ্চলের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এ অঞ্চলে সরাসরি দৃশ্যমান। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, টেকসই শিল্পায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে নতুন নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
নির্বাচনী প্রচারণায় অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং উপকূলরক্ষী স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণের প্রতিশ্রুতি গুরুত্ব পেয়েছিল। এখন সেসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দিকে নজর উপকূলবাসীর।
মন্ত্রীত্ব নিয়ে বাড়ছে প্রত্যাশা
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দা সুন্দরবন ফাউন্ডেশন-এর নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর নীতি গ্রহণ জরুরি। তাদের মতে, ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে উপকূলের বাস্তব অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণে আরও শক্তভাবে প্রতিফলিত হবে।
রামপাল-মোংলার অনেক নাগরিকও একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তাদের বিশ্বাস, উপকূলের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকা একজন প্রতিনিধির হাতে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতের দায়িত্ব গেলে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
বাগেরহাট-৩ আসনের এই ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিক পালাবদলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে বহুগুণ। এখন মূল প্রশ্ন—নির্বাচনী অঙ্গীকার কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং উন্নয়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে কতটা দৃশ্যমান অগ্রগতি আনা সম্ভব।
উপকূলের মানুষের আশা, একটি টেকসই ও পরিবেশসম্মত উন্নয়ন মডেল গড়ে তুলবেন নবনির্বাচিত প্রতিনিধি। সময়ই বলে দেবে, সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়।

