দেওয়ান মাসুকুর রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শত প্রতিকুলতা ষড়যন্ত্রের মধ্যে জনগণ স্বস্তি ও সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারার আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন, এর জন্য জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। এবং এবং একইসাথে নির্বাচনে বিএনপির জয়কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে দলটি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো পত্রিকায় প্রকাশার্থে নিম্নলিখিত বিবৃতিটি প্রদান করে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেননের মুক্তি দাবী জানিয়ে বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি অগণতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদী-মৌলবাদী-মবতান্ত্রিক অস্থির অন্তবর্তী সরকারের অপশাসন থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্খা ও শত সীমাবদ্ধতা, একতরফা কৌশলের নির্বাচনে জনগণ যে রায় প্রদান করেছে তা জনগণের স্বস্তির ও সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারা সৃষ্টির মনোভাবকেই প্রকাশ করেছে।
মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালন, অন্তবর্তী সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা, সাম্রাজ্যবাদী দালাল শক্তির বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মধ্যদিয়ে চরম দক্ষিণপন্থী মৌলবাদী শক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর নীলনকশা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে মিথ্যামামলায় বিশেষ ট্রাইবুনালে শত শত গায়েবী মামলা দিয়ে রাজনৈতিক শুন্যতার চেষ্টা, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্ন্তভুক্ত না করে একতরফা নির্বাচন করার অপচেষ্টা জনগণ মেনে নেয়নি। সকল দলের অংশগ্রহণ মূলক অর্ন্তভূক্তি নির্বাচনের জনদাবী নিয়ে জনগণ রাজনীতিক সংকটের মিমাংসা দাবি করে আসছিলো। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ অর্ন্তবর্তী সরকার ও তার প্রধান ড. ইউনুস জনদাবী ও আন্তর্জাতিক শক্তির চাপে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছেন। ত্রয়োদশ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতি জনগণের এই নিরঙ্কুশ রায়ে উপরোক্ত সংকট মোকাবেলায় ব্যালটে বহিঃ প্রকাশ ঘটেছে। জাতীয়তাবাদী দলের এই বিজয়কে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি অভিনন্দন জানাচ্ছে। জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের আহবায়ক কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন স্বাক্ষরিত ও গণমাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আপাত সংকট মোকাবেলায় একটি ধাপ অতিক্রম করলেও আরো বড় রাজনৈতিক অর্থনৈতিক বিপদ বাড়বে।
প্রথমতঃ সকল দলের অন্তভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ না থাকার ফলে মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির উত্থান ঘটেছে। পার্লামেন্টে তারা প্রধান বিরোধীদল হওয়ার ফলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বাতাবরণ আরো বাড়বে। নির্বাচনে কালো টাকা সাম্প্রদায়িকতা নৃশংসতার ফলে গণতান্ত্রিক চেতনার সংকটও বাড়বে।
দ্বিতীয়তঃ গত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবৈধভাবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে তুষ্ট করতে অপ্রকাশযোগ্য বাণিজ্য চুক্তি, সামরিক চুক্তির মধ্যদিয়ে দেশকে অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে দিয়েছে, দেশের সাধারণ জনগণের জীবন জীবিকা, আয় বৈষম্য ইতোমধ্যে সংকটে নিপতিত হয়েছে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী এই অস্থিরতার সুযোগ নেবে। দেশ পরিচালনায় নতুন সরকার হিসেবে বিএনপি সকল গণতান্ত্রিক দলের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করবেন বলে বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়। সকল মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেননের মুক্তিসহ অন্যান্য রাজনীতি, বুদ্ধিজীবি, শিল্পী, লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবি জানানো হয়। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা চেতনায় বিশ্বাস ও ‘৭২ এর সংবিধানকে রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানানো হয়।

