বিধান মন্ডল, ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাশাপাশি রামকান্তপুর ও নারানদিয়া বাজার এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী ১৩ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক দলসহ শান্তিকামী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বারবার চেষ্টা করেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হন।
এ প্রেক্ষিতে সাধারণ জনগণের জীবন রক্ষার লক্ষ্যে সালথা আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় ১৩ ফেব্রুয়ারি দিন ও রাতব্যাপী যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে রাজনৈতিক ও স্থানীয় পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ও ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাতে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগসহ সাধারণ জনতার প্রাণহানির পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পাওয়া না গেলেও তাদের বাড়ি থেকে সংঘর্ষে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা ঢাল, চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান রয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সালথা উপজেলায় যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও অরাজকতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো প্রকার দাঙ্গা বা অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের যেকোনো মূল্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এলাকাবাসীর মাঝে সেনাবাহিনীর এই দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

