দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন, অবর্ণনীয় জেল-জুলুম আর চক্রান্তের বেড়াজাল ছিন্ন করে এক ফিনিক্স পাখির মতো প্রত্যাবর্তন। গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেই স্বপ্নের সারথি হয়েই দেশে ফিরেছিলেন তিনি। গত ২৫ ডিসেম্বর কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ফেরা সেই মানুষটিই এখন বাংলাদেশের ভাগ্যবিধাতা। তিনি আর কেউ নন—বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জীবনের প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই বাজিমাত করলেন তিনি; আর তাঁর নেতৃত্বেই দেশজুড়ে বইছে ধানের শীষের জোয়ার।
১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল এখন স্পষ্ট। বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭—দুটি আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান। বিশেষ করে তাঁর পৈতৃক ভিটা বগুড়ায় ১ লক্ষ ১৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তিনি হারিয়েছেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে। শুধু নিজে জয়ী হওয়া নয়, তাঁর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে বিএনপি এখন একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর মাধ্যমেই নিশ্চিত হয়ে গেল এক ঐতিহাসিক তথ্য—তাজউদ্দীন আহমদ থেকে শুরু করে বেগম খালেদা জিয়া কিংবা শেখ হাসিনা—ব্যক্তি হিসেবে বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
কিন্তু এই বিজয় কি শুধুই রাজনৈতিক? বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি তারেক রহমানের নতুন ধারার রাজনীতির জয়। ১৭ বছর পর দেশে ফিরে শোকাতুর মনেও তিনি যেভাবে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, তা এক কথায় নজিরবিহীন। বুলেটপ্রুফ গাড়ির আভিজাত্য ছেড়ে সাধারণ বাসে চড়ে মানুষের কাছে যাওয়া, মঞ্চে দাঁড়িয়ে নয় বরং মানুষের পাশে হেঁটে হেঁটে বক্তব্য দেওয়া—রাজনীতির এই নতুন ব্যাকরণ দেশের মানুষকে মুগ্ধ করেছে। তিনি কেবল জিয়াউর রহমানের সন্তান হিসেবে নন, বরং নিজের দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়েই আজ জনগণের নেতা হয়ে উঠেছেন।
২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেই তিনি বলেছিলেন, “আই হ্যাভ এ প্ল্যান”। সেই প্ল্যান আজ দেশবাসীর মুখে মুখে। প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, আর বেকারত্ব দূরীকরণে তাঁর ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব—সাধারণ মানুষের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিই আজকের এই ভূমিধস বিজয়ের মূল চাবিকাঠি।
মায়ের মৃত্যুর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তারেক রহমান আজ এক নতুন বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

