মোঃ হাসান আলী, বাঘাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে রাঙামাটির দুর্গম উপজেলা বাঘাইছড়িতে উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাঙামাটি-২৯৯ আসনের আওতাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলায় মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই পৌরসভা, মারিশ্যা, বঙ্গলতলী, সাজেকসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য; অনেক কেন্দ্রে পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি দেখা যায়। প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণ-তরুণী ও নবীন ভোটারদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
দুর্গম পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত এলাকার কেন্দ্রগুলোতেও নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ায় নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু করা সম্ভব হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ টিম মাঠে সক্রিয় ছিল। ভোটগ্রহণ চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বাঘাইছড়ি উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার ৫৯৬ জন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই ব্যালট গণনা করা হয় এবং পরবর্তীতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
বাঘাইছড়ি উপজেলার মোট ৩৯টি কেন্দ্রের ফলাফল:
অশোক তালুকদার (লাঙ্গল) পেয়েছে ১৮৬ ভোট, জুই চাকমা (কোদাল) পেয়েছে ১২৭ ভোট, এডভোকেট দীপেন দেওয়ান (ধানের শীষ) ৩৪,৪০৯ ভোট, পহেল চাকমা (ফুটবল) পেয়েছে ৬,৩৮৪ ভোট, মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক (রিকশা) পেয়েছে ১,৮০৪ ভোট, মোঃ আবুল বাশার (ট্রাক) পেয়েছে ৩৭ ভোট এবং মোঃ জসিম উদ্দিন (হাতপাখা) পেয়েছে ২০৭ ভোট।
বাঘাইছড়ি উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এডভোকেট দীপেন দেওয়ানের প্রাপ্ত ভোট ৩৪ হাজার ৯৯২ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
রাঙামাটি-২৯৯ আসনের মোট ২১৩টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল:
এডভোকেট দীপেন দেওয়ান (ধানের শীষ) পেয়েছে ১,৯৯,৮৪০ ভোট, পহেল চাকমা (ফুটবল) পেয়েছে ৩০,৯৯২ ভোট, মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক (রিকশা) পেয়েছে ২১,৫১৩ ভোট, অশোক তালুকদার (লাঙ্গল) পেয়েছে ২,৮৭৩ ভোট, মোঃ জসিম উদ্দীন (হাতপাখা) পেয়েছে ৩,২৫৬ ভোট, মোঃ আবুল বাশার (ট্রাক) পেয়েছে ৪৬৮ ভোট এবং জুঁই চাকমা (কোদাল) পেয়েছে ১,০৩৮ ভোট।
চূড়ান্ত ফলাফলে এডভোকেট দীপেন দেওয়ান তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পহেল চাকমার চেয়ে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪৮ ভোট বেশি পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মোট কাস্ট ভোট: ২,২৬,৪০৫, বাতিল ভোট: ৪৮,৭০৭। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ৫৭,০১২ এবং ‘না’ ভোট পেয়েছে ১,৪০,৬২৯।
বিপুল ভোটের ব্যবধানের কারণে এ বিজয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘ভূমিধ্বস জয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

