আনোয়ার আলমগীর
বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের মানুষ ফিরে পেয়েছে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার—ভোটাধিকার। নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হওয়ার পথে। এই বিজয় কেবল একটি দলের নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের এক মহোৎসব।
ভোটাধিকারের পুনরুদ্ধার ও নতুন জনমত
দীর্ঘদিন পর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার যে স্বতঃস্ফূর্ততা সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে যে এদেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি কতটা তৃষ্ণার্ত ছিল। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যে বিশাল রায় পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা কেবল সরকার গঠনের ম্যান্ডেট নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের বিদ্যমান কাঠামো পরিবর্তনের এক জোরালো আহ্বান।
’জুলাই সনদ’ ও রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার
জুলাই বিপ্লবের চেতনা থেকে উদ্ভূত ‘জুলাই সনদ’ আজ দেশের মানুষের কাছে একটি পবিত্র অঙ্গীকারনামা। প্রাপ্ত ফলাফলে জনগণের যে সমর্থন ফুটে উঠেছে, তা মূলত এই সনদকে বাস্তবায়নের পক্ষেই এক শক্তিশালী রায়।
বিচারের স্বচ্ছতা: অতীতের অন্যায়-অবিচারের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।
প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার: দুর্নীতি রোধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা।
ক্ষমতার ভারসাম্য: একনায়কতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা।
এই রায় অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়াই হবে নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং বড় সাফল্য।
শৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর অনবদ্য ভূমিকা
একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়ার পেছনে পর্দার আড়ালের কারিগরদের কৃতজ্ঞতা জানানো প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: যারা আস্থার প্রতীক হয়ে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ, বিজিবি ও আনসার: প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলার ভারসাম্য রক্ষা করে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রেখেছেন।
শৃঙ্খলার এই ধারা যদি রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
উপসংহার
বিজয় আনন্দ বয়ে আনে, কিন্তু সেই আনন্দের সাথে যোগ হয় এক বিশাল দায়িত্ব। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের এই বিপুল আস্থার মর্যাদা রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা। ভোটাধিকার প্রয়োগের যে সংস্কৃতি পুনরায় শুরু হলো, তা যেন যুগ যুগ ধরে অব্যাহত থাকে। একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও সংস্কারমুখী বাংলাদেশের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে।

