১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রধান পক্ষ—বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে টাকা দিয়ে ভোট কেনার পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলন ও পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে দুই দলের শীর্ষ নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার দাবি তুলেছেন।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম দুপুরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন:
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতা ও যুবদল নেতার মাধ্যমে বিএনপি নগদ টাকা বিতরণ করছে। বিএনপি কর্মীদের পক্ষ থেকে নারী ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিএনপির দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ১১ জন প্রিসাইডিং অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন বলে তিনি লিখিত অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান:
১৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি গত রাতে ভোটারদের নগদ টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গিয়ে জনগণের হাতে ধরা পড়েছেন। পরে ক্ষমা চাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রার্থী রেজাউল করিম নিজেই ভোটারদের ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এবং নগদ অর্থ দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার লড়াই এখন ব্যক্তিগত ও দলীয় ইমেজ রক্ষার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। উভয় পক্ষই ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, সব অভিযোগ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভোটকেন্দ্রে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

