ভোটের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা আজ অনেকটাই ফাঁকা। সিদ্ধেশ্বরী, বেইলী রোড ও মগবাজারের রাস্তায় রোদ পড়লেও চিরচেনা কোলাহল নেই। চায়ের দোকানগুলোতে তরুণদের একটাই আলোচ্য বিষয়—নির্বাচন।
নতুন ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে জন্ম নিয়েছে এক ধরনের সামাজিক মিডিয়া-ভিত্তিক ট্রেন্ড। ভোট দেওয়ার পর তারা ‘ইঙ্কড ইউর ফিঙ্গার’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ছবি শেয়ার করবেন। মগবাজারের ছাত্র আরিয়ান বলেন, “আগে ভোট দেওয়া নিয়ে অনীহা ছিল, এখন এটা ‘কুল’। আমরা সাদা পাঞ্জাবি ও জিন্স পরে কেন্দ্রে যাব। এটা আমাদের কাছে এক ধরনের উৎসব।”
চারুকলার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানান, “আমরা শুধু প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করি না, এবার চাই বাস্তবায়িত কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার সমাধান।” সদ্য স্নাতক রাশেদ যোগ করেন, “গণভোট সম্পর্কে অনেকেই পুরোপুরি বুঝতে পারে না, তাই আমরা বন্ধুদের সঙ্গে তথ্য ছড়াচ্ছি।”
বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রই তরুণদের প্রিয় পুরনো স্কুলে। মগবাজারের বাসিন্দা ও আইটি প্রফেশনাল সাকিব বলেন, “লাইনে দাঁড়াতেই বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হবে। ভোট দেওয়ার পর ফাঁকা ঢাকায় ঘুরব এবং ছবি আপলোড করব।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটকেন্দ্রের ছবি, ভিডিও ব্লগ ও রিলস তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইনফ্লুয়েন্সার মাইশা হক বলেন, “ভোট দেওয়ার পরে আঙুলের কালির ছবি আমাদের ‘ডিজিটাল ব্যাজ অফ অনার’।”
ঢাকার তরুণরা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি মনে রাখছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব বলেন, “আমাদের জেনারেশন রাস্তায় রক্ত দিয়েছে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের জন্য। এই ভোট সেই ‘জুলাই স্পিরিট’-এর প্রতিফলন।”
তরুণরা এমন নেতৃত্ব চাইছেন, যা মেধার মূল্যায়ন, বাকস্বাধীনতা ও সুশাসন নিশ্চিত করবে। চারুকলার শিক্ষার্থী মৃত্তিকা বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতা নিরাপদে বিকশিত হবে। ভোট আমাদের প্রতিবাদ, আমাদের উৎসব।”
ফাঁকা ঢাকা, পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে মেলবন্ধন এবং সামাজিক মাধ্যমের চর্চা—এই তিন মিলিত ভাবনায় ভোটের দিনটি তরুণদের জন্য এক বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে গড়ে উঠেছে।

