মোঃতাইজুল ইসলাম,শরণখোলা প্রতিনিধিঃ
দিনমজুরের কাজ ও ভাড়ায় অটোভ্যান চালিয়ে চার সদস্যের সংসার চালাতেন মোঃ শহিদুল আলাদার (৪৫)। হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এখন তিনি শয্যাশায়ী। অর্থের অভাবে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে না পারায় চরম দুর্দশায় দিন কাটছে তার পরিবারের।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের উত্তর তাফালবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শহিদুল আলাদার দীর্ঘদিন ধরে দিনমজুরের কাজের পাশাপাশি ভাড়ায় অটোভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। তার উপার্জনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল স্ত্রী ও সন্তানসহ চার সদস্যের সংসার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে প্রতিদিনের মতো সকালে ভাড়ায় একটি অটোভ্যান নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন শহিদুল। কাজের মধ্যেই হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন।
অর্থের অভাবে পর্যাপ্ত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। ফলে বর্তমানে স্ট্রোকের কারণে তার একটি পা সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে এবং কথা বলার শক্তিও হারিয়েছেন তিনি। উপার্জনের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।শহিদুলের স্ত্রী রহিমা বেগম বলেন,আমার স্বামীই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ। সে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আমাদের সংসার পুরোপুরি থেমে গেছে। চিকিৎসা আর ওষুধ কেনার মতো কোনো টাকা আমাদের নেই। সরকারের কাছে এবং সমাজের ভালো মানুষের কাছে আমার একটাই অনুরোধ আমার স্বামীকে বাঁচাতে সাহায্য করুন।”
প্রতিবেশী রুস্তম মল্লিক বলেন,শহিদুল খুব পরিশ্রমী মানুষ। দিনমজুরি আর অটোভ্যান চালিয়ে সংসার চালাত। কখনো কারো কাছে হাত পাতেনি। আজ সে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। আমরা এলাকাবাসী নিজেরা যতটুকু পারছি সাহায্য করছি, কিন্তু বড় চিকিৎসার জন্য সরকারের সহযোগিতা খুব প্রয়োজন।” বর্তমানে নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে শহিদুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। পরিবারটির পক্ষে একা এই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়।
এমন মানবেতর অবস্থায় শহিদুল আলাদারের পরিবার সরকারের সমাজকল্যাণ বিভাগসহ সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে চিকিৎসা সহায়তার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছে। তারা আশা করছেন, মানবিক সহায়তা পেলে আবার চিকিৎসার সুযোগ পাবেন শহিদুল এবং পরিবারটি নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে।

