Bangla FM
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • কলাম
  • ভিডিও
  • অর্থনীতি
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • প্রবাস
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
Bangla FM

আস্থার কান্ডারি জামায়াত-অপেক্ষমান জাতি

Bangla FM OnlinebyBangla FM Online
৬:০৬ pm ১০, ফেব্রুয়ারী ২০২৬
in মতামত
A A
0

মুহাম্মদ আল্-হেলাল

আমাদের মাঝে বহুদিন পর হাজির হয়েছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ এর রক্তাক্ত বিপ্লব এবং গন অভ্যুত্থান পেরিয়ে।

যে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুধু দেশবাসী নয় বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে এদেশের বিপ্লব এবং গনঅভ্যুত্থান। একই সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আবার প্রমাণ করেছে এবং জাতি প্রত্যক্ষ করেছে জামায়াত শুধু রাজনৈতিক দল নয় বরং জাতির আস্থার কান্ডারি। ২০২৪ খ্রিস্টাব্দের ৫ ই আগস্ট বৈষম্য বিরোধী তীব্র ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনার পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী সরকারের প্রায় ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পতন হয়।

আন্দোলনটি জুলাই মাসের প্রথম থেকে শুরু হয় এবং বেগবান হয়ে উঠে ১৫ ই জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী অঙ্গ সংগঠনের স্বশস্ত্র আক্রমনের মধ্য দিয়ে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ৯ দফা, ৮ দফা, ৪ দফা সর্বশেষ ৩ রা আগস্ট ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে অসহযোগ আন্দোলন এবং শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের ১ দফা দাবি করা হয়। আন্দোলনটির নেতৃত্ব দেন বেশ কজন সমন্বয়ক তবে প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন নাহিদ ইসলাম।

আন্দোলনকারীদের প্রতি আস্থা রেখে তাদের দাবির সাথে একের পর এক একাত্মতা ঘোষণা করেন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আওয়ামী জোট ছাড়া জামায়াত শিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এমনকি দেশের সর্বস্তরের জনতা। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন পরবর্তীতে ছাত্র জনতার বিপ্লব এবং গন অভ্যুত্থান তথা ছাত্র জনতার বিজয় হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। এদেশের রাজনীতিতে বহুদিন ধরে জামায়াত-শিবির শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসাবে পরিগণিত হয়।

তাই জামাত-শিবির কে নিয়ে অন্যান্য দলগুলো কে সবসময় তৎপর থাকতে দেখা যায়। সেই তৎপরতার অংশ হিসেবেই ১ লা আগস্ট ২০২৪ বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ (১) ধারা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করে তৎকালীন আওয়ামী সরকার জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও তাদের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে। জামায়াত-শিবিরের মতো মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তির দলটিকে নিষিদ্ধ করে বুমেরাং হয়ে কার্যত আওয়ামী লীগ ই দেশ ও জাতি থেকে নিষিদ্ধ হলো।

এদেশে ছাত্র আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল অতীত রয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে আফঘানিস্তানে ছাত্রদের সংগঠন সফলভাবে সরকার পরিচালনা করেছেন। অল্প কিছুদিন আগে জাতির সামনে প্রশ্ন বিপ্লবী ছাত্র জনতার প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে সদ্য গঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপি-জাতীয় নাগরিক পার্টি দেশ পরিচালনার কান্ডারি হবে নাকি মুসলিম দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ইসলামী রাজনৈতিক দলকে একবার দেশ পরিচালনার সুযোগ দিয়ে জাতি পরীক্ষা করবে যারা জাতির বিভিন্ন সংকটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন? এনসিপির জায়গায় এখন বিএনপি তবে জামায়াতের অবস্থান প্রতিদ্বন্দ্বিতার শীর্ষেই আছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড জাতি উপভোগ করছে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত এনসিপির ইতিহাস, ঐতিহ্য জাতির কাছে স্পষ্ট। সঙ্গত কারণে এদেশের প্রাচীন এবং অন্যান্য প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সংক্ষিপ্ত কর্মকাণ্ড জানাও জাতির জন্য জরুরি ।

বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে এদেশের সবচেয়ে প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ব্রাদারহুডের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী বিশ্বের মূল ও প্রভাবশালী ইসলামী সংগঠনগুলির মধ্যে অন্যতম।

সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী ১৯৪১ সালের ২৬ শে আগস্ট লাহোরের ইসলামিয়া পার্কে সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসাবে জামায়াত ইসলামী হিন্দ নামে সংগঠন টি প্রতিষ্ঠা করেন। জামায়াতের অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে রাজনীতি করার যেমন নাম রয়েছে ভারতীয় আধিপত্যের আশঙ্কা এবং ইসলামী আন্দোলনের স্বার্থকে কেন্দ্র করে তেমনিভাবে ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির বিরোধিতায়ও নাম রয়েছে। সকল ক্ষেত্রে অখণ্ড এবং শক্তিশালী মাতৃভূমির পক্ষে দলটির অবস্থান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনা ও সংবাদমাধ্যমের পরিমণ্ডলে আলোচ্য সংগঠনটিকে ‘জামায়াত’ বলেও উল্লেখ করা হয়। জামায়াতে ইসলামী এবং এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির। একত্রে বোঝাতে ‘জামায়াত-শিবির’ শব্দদ্বয় ব্যবহৃত হয়।

জামায়াতে ইসলামীর কর্মী, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী, এই দুই সংগঠনের অঙ্গ ও সমমনা সংগঠনসমূহের কর্মী, দলটির সবকয়টির সমর্থকগোষ্ঠী বোঝাতে ‘জামায়াতি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দলটি মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত যার মধ্যে কখনও অন্তকোন্দলের এবং অন্যান্য দলের ন্যায় কখনও পরিবারতন্ত্রের লেশমাত্র পরিলক্ষিত হয়নি এমনকি সে সুযোগও নেই।

পাকিস্তান বিভক্ত হবার আগে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর ছিলেন গোলাম আযম। সে ধারাবাহিকতায় ১৯৯২-৯৪ সালের জন্য জামায়াতে ইসলামীর আমীর নির্বাচিত হন গোলাম আযম। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জন দলের আমীর নির্বাচিত হন এবং বর্তমান আমীর ডক্টর শফিকুর রহমান। দলটির দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গণতন্ত্র চর্চার দল হিসাবে সুনাম রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত এক নেতা একেএম নাজির আহমেদের বই ‘রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী’ থেকে বিষয়টি জানা যায় ‘২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ সিন্ধুর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মওলানা জান মোহাম্মদ করাচিতে ক্ষমতা হস্তান্তরে জটিলতা প্রসঙ্গে বলেন, সকল জাতীয় ও রাজনৈতিক বিষয় ড্রয়িং রুমের পরিবর্তে জাতীয় পরিষদেই মীমাংসা হওয়া প্রয়োজন।’ পিপলস পার্টির জাতীয় পরিষদে যোগদান না করা মানে দেশকে দুই অংশে ভাগ করে ফেলা। পূর্ব পাকিস্তান পৃথক হয়ে গেলে ভূট্টো সহজেই পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। তার এ বাস্তবধর্মী ঘোষণায় পাকিস্তানে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।(একাত্তরের দিনপঞ্জি, ২৫)।

দলটির এদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন অবদান রয়েছে। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। আন্দোলন সামাল দেবার জন্য জেনারেল এইচএম এরশাদ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনায় বসেন। জেনারেল এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে জামায়াতে ইসলামী ১৮ টি আসনে জয়লাভ করে। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী সমর্থন না দিলে বিএনপির পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব হতো না। তখন থেকে এদেশের রাজনীতিতে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে জামায়াতে ইসলামী। ২০০৮ সালের একেবারে শেষদিকে বাংলাদেশে যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেখানে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।

এরপর ১৯৭১ সালে জামায়াতের অখণ্ড শক্তিশালী পাকিস্তানের পক্ষে থাকার অভিযোগে দলের নেতাকর্মীদের বিচার শুরু হয়। দলটি তার গ্রেফতারকৃত কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য প্রোসিকিউটার নিয়োগ করে এবং সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করে। এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু সুতরাং প্রসিকিউটর নিয়োগ না করে রাজনৈতিকভাবে আলোচনার টেবিলেও সমাধান করতে পারত। কেননা দলটি ইসলামী রাজনীতি করে আর ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কল্পে রাসুল সা. ও সন্ধি করেছিলেন ইহুদিদের সাথে।‌ সে বিচারে গোলাম আযমসহ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই দণ্ডিত হয়। বয়সের কথা বিবেচনা করে গোলাম আযমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিলে কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।

এছাড়া দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ অনেকেরই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। দলটি দেশের জন্য জানমালের অনেক কুরবানী দিয়েছে। জামায়াতের বয়স হয়েছে প্রায় শত বছর সুতরাং এটি দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। দলটির বিশাল ব্যবসা বাণিজ্য আর অনেক সেবামূলক প্রকল্প য়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিভক্তির পর এদেশের নতুন সরকার কর্তৃক জামায়াতকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে দলের নেতারা পাকিস্তানে নির্বাসনে চলে যান তবে দলটিকে দমানো যায়নি।

পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের পর এবং কয়েকটি সামরিক অভ্যুত্থানের পর ১৯৭৭ সালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে জামায়াতের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। দলটির নেতাকর্মীরা ফিরে আসার অনুমতি পান এবং ১৯৭৯ সালের মে মাসে তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংগঠনের উদ্দেশ্য হলো শরিয়াহ ভিত্তিক একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যা বর্তমান ইরান, আফঘানিস্তান, পাকিস্তান ও সাউদি আরাবিয়ার মতো দেশসমূহে লক্ষ্য করা যায়।

১৯৮০-এর দশকে জামায়াত গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য বহুদলীয় জোটে যোগদান করে। পরবর্তীতে দলটি সমসাময়িক বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে তৎকালীন জামায়াত আমীর গোলাম আযমের প্রদত্ত ফরমুলার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য আন্দোলন করে। ২০০১ সালে নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে বিএনপির সাথে মিলিত হয়ে আরো অন্য দুটি দলসহ চারদলীয় ঐক্যজোট গঠন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোট জয়লাভ করলে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে জামায়াতের দুজন সদস্য মন্ত্রী নির্বাচিত হন।

১/১১ এর পর ম ঈ ন – ফখরুদ্দিনের আমলে দূর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন দলের কর্মি থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে বন্দী করলেও জামায়াত ইসলামীর কোন নেতৃবৃন্দ দূরে থাক কোন কর্মি বন্দী তো নয়ই তাদের নামে এমন কোন অভিযোগও করেনি। অন্যান্য সময়ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মিরা ক্ষমতায় থাকা বা ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় ঘুষ, দূর্নীতি, ধর্ষণ ইত্যাদি অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও এই দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় থাকা বা ক্ষমতার বাইরে থাকার কোন পর্যায়ে ই এমন কোন অভিযোগ দূরে থাক ইঙ্গিতও ওঠেনি।

উল্লেখিত ১ লা আগস্ট ২০২৪ জামায়াত শিবিরকে নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করলে জামায়াত ৩ রা আগস্ট ২০২৪ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে রাজপথে উপস্থিত হয়। জামায়াত শিবিরের রাজপথে উপস্থিতীতে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের ১ দফা দাবিতে আন্দোলন তীব্রতর হয়ে ওঠে এবং প্রায় ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই জামায়াত শিবিরকে নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করা আওয়ামী লীগেরই পতন নিশ্চিত হয়।

সদ্য বিদায়ী আওয়ামী সরকারের ন্যায় অতীতে জামায়াত ছাড়া আরো রাজনৈতিক দলের এমন আচরণ জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। এবার ৫ ই আগস্ট ২০২৪ প্রায় ১৫ বছর ধরে সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের পতন তরান্বিত করল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অন্যান্য সরকারের ন্যায় এবারও আওয়ামী সরকারের পতন তরান্বিত করার সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল জামায়াত। যখন জাতির সামনে সংকট হাজির হয় তখনই জামায়াতকে রাজপথে সংকট মোকাবেলায় জনগণের আস্থার প্রতীকরূপে দেখা যায়।

জামায়াত শুধু শীর্ষ পর্যায়ের নয় যেকোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে সর্বদা প্রস্তুত সেটি পরিলক্ষিত হয়। যেটি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনুপস্থিত। ইমরামনুল হক(ছদ্মনাম) এবং তার স্ত্রী একটি বেসরকারি সংস্থায় সূদ কার্যক্রমে কর্মরত ছিলেন বেতন দুজন মিলে প্রায় লক্ষাধিক পেতেন। জামায়াতের সংস্পর্শে এসে স্বামী স্ত্রী দুজনই চাকরি থেকে শুধু হারাম সূদ কার্যক্রমের জন্য অব্যহতি নেন। বর্তমান একটি ব্যবসা পরিচালনা করেছেন যার উপার্জন সর্বসাকুল্যে ১০-১৫ হাজার টাকা। বর্তমান তিনি জামায়াতের একটি পৌরসভার আমীর সংশ্লিষ্ট জেলা সদরের একটি নাশকতার মামলায় ২০২৩ এর সংসদ নির্বাচনে গ্রেফতার হন এবং প্রায় ৪/৫ মাস জেলে বন্দী থাকেন। যে অভিযোগে তাকে আওয়ামী আমলে গ্রেফতার করা হয় সে স্পটেই তিনি উপস্থিত ছিলেন না। ‘আমার পরিবারের সমস্যা দল থেকে নিয়মিত দেখভাল করেছে। জেলে বন্দী থাকা অবস্থায় বা জেলের বাইরে থাকা অবস্থায় আমার তেমন কোন পেরেশানি ছিল না এখনও নেই আলহামদুলিল্লাহ। এমন ইসলামী দলের সংস্পর্শে থাকলে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই শান্তি’ কথা গুলো বলছিলেন জামায়াতের মাজলুম নেতা। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মীরা যেমন নিজ দলের কর্মীদের দ্বারা ই ঘায়েল হন সেটি এই দলের মধ্যে অনুপস্থিত। সুতরাং এই সকল দিক দিয়ে এই দলটির কর্মীরা নির্বিঘ্নে প্রাণখোলা ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

জামায়াত ইসলামী জাতীয় সংকটে ১৯৯০ সালে অন্যান্য রাজনৈতিক দল নিয়ে যৌথভাবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর সরকারের এবং ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৫ দিনে বিএনপি সরকারের পতনের এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তনের অগ্রনী ভূমিকা পালন করে। বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ থাকা অবস্থায় দলটির দুনেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ যথাক্রমে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সফলভাবে কোন প্রকার অভিযোগহীনভাবে পরিচালনা করেন। সে সময় দলদুটির মধ্যে সন্ধি থাকলেও দলদুটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদলের মধ্যে তেমন উষ্ণ সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়নি।

এছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর জামায়াতের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার শুরু হলে জোটবদ্ধ বিএনপিকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের পক্ষে তেমন কোন বিবৃতি দিতে দেখা যায় নি বরং নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে। বিএনপিকে তার ক্ষেসারতও কম দিতে হয়নি।

১৯৪৭ ও ১৯৭১ এর দেশ বিভাজন, ১৯৯০ এর গন অভ্যুত্থান, ১৯৯৬ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনসহ দেশের সকল ক্রান্তিলগ্নের ন্যায় ২০২৪ সালের বিপ্লব, গন অভ্যুত্থান, ভয়াবহ বন্যা, শীতের প্রকোপের মতো সংকটোত্তরনের রূপরেখা এবং সম্মুখভাগ থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের সাথে আছে শক্তিশালী মাতৃভূমি গঠনের অতন্দ্র প্রহরী, বার বার প্রমাণিত জাতির আস্থার প্রতীক, এদেশের অদম্য রাজনৈতিক দল জামায়াত। অন্যদিকে ১৯ জুলাই ২০২৫ ঢাকার সহরোয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ আর ৩১ শে ডিসেম্বর ২০২৪ ও ২৬ শে ডিসেম্বর ২০২৫ দলটির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে দলটির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দেশের শিক্ষার্থী অভিভাবকদের নিয়ে সাইন্স ফেস্টের মত বিশাল আয়োজন করেছে যা দেশ বিদেশে ভূয়সি প্রশংসা কুড়িয়েছে। জামায়াত শিবিরের কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতে ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসুর ন্যায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদে শিবির সমর্থিত প্যানেল বিপুল ভোটে প্রায় সবকটি পদে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করার পর শপথ গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা, শিক্ষার মান বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকদের মতে জামায়াত শিবিরের ২০২৪ সালের বিপ্লব ও গন অভ্যুত্থান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরঙ্কুশ বিজয়লাভের পূর্ববর্তী-পরবর্তী কার্যক্রম, সাম্প্রতিক সমাবেশ, সমাবেশে জনউপস্থিতি, শৃঙ্খলা এদেশেতো বটে বিশ্বের সকল কালের রাজনৈতিক দলের ইতিবাচক কার্যক্রম, শৃঙ্খলা, জনসমাবেশের সকল রেকর্ড ব্রেক করেছে।

সুতরাং এদেশের জনগণও অপেক্ষার প্রহর গুনছে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের ন্যায় দলটিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনুষ্ঠিতব্য অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির আস্থার কান্ডারি হিসাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব তুলে দেওয়ার জন্য।

এমফিল গবেষক (এবিডি)
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ShareTweetPin

সর্বশেষ সংবাদ

  • জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্র টাঙ্গাইল–২ আসন
  • সিরাজগঞ্জে সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তা দাবিতে মানববন্ধন
  • বান্দরবানে ধানের শীষের নির্বাচনী কার্যালয়ে দুর্বৃত্তের অগ্নিসংযোগ
  • নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহবান যৌথবাহিনীর
  • নড়াইলের লোহাগড়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুর ইসলাম (রাশেদ মানিক)
নির্বাহী সম্পাদক: মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ

বাংলা এফ এম , বাসা-১৬৪/১, রাস্তা-৩, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফোন:  +৮৮ ০১৯১৩-৪০৯৬১৬
ইমেইল: banglafm@bangla.fm

  • Disclaimer
  • Privacy
  • Advertisement
  • Contact us

© ২০২৬ বাংলা এফ এম

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • প্রবাস
  • ভিডিও
  • কলাম
  • অর্থনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • চাকুরি
  • অপরাধ
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • ফটোগ্যালারি
  • ফিচার
  • মতামত
  • শিল্প-সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়

© ২০২৬ বাংলা এফ এম