‘ভোটের গাড়ি’র প্রচারণায় রাখা ‘জনমত বাক্স’-তে নিজেদের মনের কথা লিখে জানিয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ। কেউ লিখেছেন ব্যক্তিগত দুঃখের কথা, কেউ চেয়েছেন হয়রানিমুক্ত জনসেবা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার। আবার কেউ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, নারী-পুরুষের সমতা, শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা এবং দুর্নীতিমুক্ত ও আধিপত্যহীন বাংলাদেশের দাবি জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি সরকারের সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণও এসেছে কিছু মন্তব্যে।
‘দেশের চাবি, আপনার হাতে’ শীর্ষক গণভোট ২০২৬ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে পরিচালিত ভোটের গাড়ির কার্যক্রমে মোট ৪০ হাজার ২০৬ জন টুকরো কাগজে তাদের মতামত লিখে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছেন।
ঢাকা বিভাগ থেকে এসেছে ১০ হাজার ২১৬টি মন্তব্য। চট্টগ্রাম থেকে ৬ হাজার ৬টি, সিলেট থেকে ১ হাজার ৬৫১টি, বরিশাল থেকে ২ হাজার ১২৪টি, খুলনা থেকে ৪ হাজার ৬৭৮টি, রংপুর থেকে ৩ হাজার ৬০৫টি, রাজশাহী থেকে ৫ হাজার ৭৩৮টি, ময়মনসিংহ থেকে ১ হাজার ৭৯৯টি মন্তব্য এসেছে।
ভোটের গাড়ি সারাদেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর প্রায় ২ হাজার ১৬৯টি স্পটে গিয়ে প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়েছে।
গাজীপুর থেকে রাফা লিখেছেন, ‘আমার পরামর্শ হলো— আমি এ দেশের মাটি ও বাতাসের মাঝে নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ ভবিষ্যত বাংলাদেশে দেখতে চাই। এরকম একটা ভবিষ্যত বাংলাদেশ গড়তে নীতি-নির্ধারক তৈরি করার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করুন— রাফা, গাজীপুর বয়স : ১০ বছর।’
কুমিল্লা থেকে দেওয়ান সালাহউদ্দিন লিখেছেন, ‘সুষ্ঠু ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। মানুষ চায় সুষ্ঠু ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে। কেন্দ্রে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা যাবে না। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। প্রধান উপদেষ্টা ভালো ভোট আয়োজন করবেন। শুভেচ্ছান্তে দেওয়ান সালাহউদ্দিন।’
চট্টগ্রাম থেকে গোলাম রাব্বানি লিখেছেন, ‘আমি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে কোম্পানির মালিককে সুযোগ করে দেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।’
ঠাকুরগাঁও থেকে একজন লিখেছেন, ‘গরিব মানুষ, দিন মজুরি করে খাই। গরুর মাংস আমরা কিনে খেতে পারি না। বাজার নিয়ন্ত্রণ চাই, সিন্ডিকেট চলতেছে বাজারে। গরিব মানুষ কিনে খাইতে পারছে না।’
বরিশাল থেকে সাদিক লিখেছেন, ‘যে দেশে শিক্ষকদের মান উন্নয়ন নিয়ে কেউ ভাবে না, সে দেশে সুন্দর আদর্শ রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব না।’
পিরোজপুর থেকে একজন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সকল মানুষের অধিকার দিতে হবে। সব ধর্মের মানুষের অধিকার দিতে হবে। সবাইকে বাকস্বাধীনতা, অধিকার দিতে হবে। স্বাধীন বাংলায় সবার অধিকার থাকবে। পক্ষপাতিত্ব যেন না হয়। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান একসাথে বাঁচতে চাই। সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা চাই।’
দিনাজপুর থেকে লিজা, বিপাশা, সুমি, লিনা, বৃষ্টি লিখেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে মনে রেখে দেশের সুন্দর এবং সুষ্ঠু সংস্কার চাই। নারী ও শিশুদের অধিকার, ধর্ষণের ১০ দিনের মধ্যে রায় কার্যকর হোক। রাজনৈতিক যে দলই ক্ষমতায় আসুক, শুধু দিনাজপুর না— দেশের সংস্কারে যেন সকলেই নিয়োজিত থাকে।’
কোনো রকম অস্বস্তি-সংকোচ ছাড়াই সাবলীল, আবেগাপ্লুত মন্তব্যগুলো পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জনগণের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা অমূল্য সম্পদ, তাই কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই সকল প্রশংসা, মন্তব্য, পরামর্শ এবং সমালোচনা-নিন্দাও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

