মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
১১ দলীয় জোটের শরিক দল এনসিপির রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জামিল হিজাযী বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটবে, তবে সেটি হবে ব্যালটের মাধ্যমে, জনগণের ভোটের অভ্যুত্থান। আর সেই ভোটের অভ্যুত্থানেই আওয়ামী পরবর্তী জুলুমবাজ শক্তির নিশ্চিত পরাজয় হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজবাড়ীতে একান্ত সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি।
জামিল হিজাযী বলেন, মানুষ সবসময় জুলুম ও নিপীড়নের বিপক্ষে থাকে। জনগণ এমন একজন নেতৃত্ব খোঁজে, যাকে সামনে রেখে তারা জুলুমবাজদের উৎখাত করতে পারে। আমি সেই জায়গা থেকেই কথা বলছি। আমি ভয়ভীতিহীন মানুষ। জনগণের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা ভয় পাবেন না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাহসের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যান এবং যাকে পছন্দ করেন, তাকেই ভোট দিন।
তিনি বলেন, আমি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। তাই আমি কখনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিই না। অতীতে আমি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না এবং ভবিষ্যতেও কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়াব না। দেশের মানুষ এখন চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ চায়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে মুক্তি চায়, এটাই বাস্তবতা।
রাজবাড়ী-২ আসনের নির্বাচনী প্রসঙ্গ তুলে ধরে জামিল হিজাযী বলেন, আমার একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বলেছেন—তিনি নির্বাচিত হলে মানুষ ঘরের দরজা খুলে ঘুমাতে পারবে। কিন্তু এটি একটি প্রতারণামূলক বক্তব্য। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তারা যে মাত্রায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তা রাজবাড়ীসহ সারা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। মানুষ এখন আর তাদের চায় না। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। আর এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার ফলেই এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
তিনি আরও বলেন, দলীয় রাজনীতিতে আমি নতুন হলেও গত প্রায় ১৫ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। ফলে রাজনীতির মাঠে আমি অপরিচিত নই। এই এলাকায় সাধারণ মানুষের যে সাড়া ও ভালোবাসা পাচ্ছি, তাতে আমাদের বিজয় খুবই সন্নিকটে বলে আমি আশাবাদী।
জামিল হিজাযী বলেন, নির্বাচিত হলে রাজবাড়ী-২ আসনের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার।

