১০ দিনের অনিশ্চয়তা, পাল্টাপাল্টি বিবৃতি এবং কূটনৈতিক আলোচনার পর অবশেষে নিশ্চিত হলো ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি ম্যাচ। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর মাঠে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী একে অপরের মুখোমুখি হবে।
ঘটনার শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভারত সফর থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর। মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল ইস্যু এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ দল সফর থেকে সরে গেলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (আইসিসি) তাদের ওপর কোনো শাস্তি আরোপ করেনি।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এ সময়ে নীতি সমতার দাবি জানায়। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বলেন, “যদি ভারত পাকিস্তানে না আসে এবং হাইব্রিড মডেল সম্ভব হয়, তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন তা প্রযোজ্য হবে না?” এই দ্বৈত নীতির অভিযোগ সামাল দিতে পাকিস্তান মাঠে দাঁড়ায়।
পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক চাপও কাজ করেছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে ফোন কল ও আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে রাজনীতির টেবিলে ক্রিকেটের লড়াই হারাবে না। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম পাকিস্তানের সাহসী ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ফলশ্রুতিতে, পাকিস্তান খেলতে সম্মত হয় এবং বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে সরে গেলেও শাস্তি থেকে মুক্ত থাকে। বিসিবি ২০২৮-৩১ মেয়াদে একটি বড় আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পায়। পাকিস্তান নৈতিক জয় এবং বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন লাভ করেছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর মাঠে এটি এখন শুধু ভারত-পাকিস্তানের লড়াই নয়, বরং ক্রিকেটের অস্তিত্ব রক্ষার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

