দীর্ঘ দেড় দশক পর এক ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিগত নির্বাচনগুলোতে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি বা দমন-পীড়নের চিত্র দেখা গেলেও, এবার রাজপথে ও ভোটের মাঠে ভিন্ন উত্তাপ বিরাজ করছে। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই নির্বাচনকে ধরা হচ্ছে এক গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট।
নির্বাচনী বিশ্লেষণে এখন পর্যন্ত বিএনপিকে এগিয়ে রাখা হলেও ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট একটি শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের নতুন একটি রাজনৈতিক দলের জোট গঠন নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতেই লড়ছে দলটি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকার গঠনের বিষয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন।
এক সময় নিষিদ্ধ থাকা এই দলটি এবার তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফলের প্রত্যাশা করছে। তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে ভোটারদের মধ্যে তাদের আবেদন বাড়ছে।
হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকলেও স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে তারা কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের তথ্যমতে, মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশই তরুণ প্রজন্মের। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণদের বড় একটি অংশই চায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব। ২১ বছর বয়সী ভোটার মোহাম্মদ রাকিবের মতে, বিগত বছরগুলোতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি; এবার তারা স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ চান।এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের প্রভাবের ভবিষ্যৎ। বিশ্লেষকদের মতে: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার পতনের পর বেইজিংয়ের প্রভাব বাংলাদেশে দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে।
বিএনপিকে ভারতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করা হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক জোরদারের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে।
তবে তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেওয়া দেশগুলোর সঙ্গেই তারা বন্ধুত্ব বজায় রাখবেন।
পরবর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে এখন পর্যন্ত তারেক রহমানকেই সবচেয়ে জোরালো প্রার্থী মনে করা হচ্ছে। তবে জামায়াত জোটের ফল আশাতীত ভালো হলে ডা. শফিকুর রহমানও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকতে পারেন।
সারা দেশের দেয়ালে দেয়ালে এখন ‘ধানের শীষ’ এবং ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পোস্টার-ব্যানারের আধিপত্য। আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের অনুপস্থিতিতে এবার এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বাংলাদেশ।

