সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ব্যতিক্রমী এক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের কলেজ রোড এলাকায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থিত পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহার ঘোষণার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রীতম দাশ বলেন,শ্রীমঙ্গলবাসীর অন্যতম বড় দুর্ভোগ এই ময়লার ভাগাড়। এর আশপাশে থাকা তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,একটি মসজিদ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছেন। জনগণের এই দুর্ভোগের প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। নির্বাচিত হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
তিনি আরও জানান,চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও আদিবাসীদের ভূমির অধিকারের আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তাকে ১৩১ দিন কারাবরণ করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি চা শ্রমিক,আদিবাসী,কৃষক,যুবক ও নারীদের অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
নির্বাচনী ইশতেহারে প্রীতম দাশ বলেন,তার রাজনীতি মানুষের জন্য। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই তার প্রধান অঙ্গীকার। ইশতেহারে চা শ্রমিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা,মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের মাধ্যমে আদিবাসী ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এছাড়া হাওর দখলমুক্ত করে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া,নির্দিষ্ট ফি’র মাধ্যমে সবার জন্য মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করা,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থাকা ময়লার ভাগাড় অপসারণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপনের ঘোষণা দেন তিনি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পায় ইশতেহারে।
স্বাস্থ্যখাতে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা,চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি,পৌরসভা সম্প্রসারণ এবং শমসেরনগরকে পূর্ণাঙ্গ পৌরসভায় রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। যানজট নিরসনে আধুনিক বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
কৃষিখাতে সার,সেচ ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা,আধুনিক বহুমুখী কৃষি ব্যবস্থা চালু,মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ,প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কমিউনিটি সেফটি নেটওয়ার্ক গঠনের কথাও উল্লেখ করেন প্রীতম দাশ।
তরুণদের জন্য ওয়ান স্টপ ইয়ুথ সেন্টার ও ডিজিটাল হাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি,পাশাপাশি হোমস্টে ও ইকো-কালচারাল ট্যুরিজম উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে ইশতেহারে।
এনসিপি প্রার্থী আরও বলেন,ইমাম,পুরোহিতসহ সকল ধর্মীয় নেতাদের রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা হবে এবং মসজিদ-মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ের বেদখলকৃত জমি উদ্ধার করা হবে।
শেষে তিনি বলেন,অতীতে বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ এখনো অবহেলিত রয়ে গেছে। সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলকে আধুনিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করাই তার লক্ষ্য। পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি এলাকাবাসীর প্রতি শাপলাকলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

