ক্রাইম রিপোর্টার:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বারবার আশ্বাস দিয়ে বলছে—এই নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। একই সঙ্গে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন—যা গণতন্ত্রের পরিসর বিস্তারের এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। ইতোমধ্যে পোস্ট করা ব্যালট দেশে আসাও শুরু হয়েছে। তবে শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৫টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা হাতে পেয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসির তথ্য অনুযায়ী ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৯ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বিভাগে জমা দিয়েছেন। কিন্তু সময় গড়ালেও বিপুলসংখ্যক সেই ব্যালট এখনো দেশে না পৌঁছানোয় ভোটের স্বচ্ছতা ও সময়মতো গণনার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রাজধানীর ইনকিলাব মঞ্চে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। দেশের প্রায় সব গণমাধ্যমের ক্যামেরার লেন্স এখন ইনকিলাব মঞ্চকেন্দ্রিক।
সমালোচকদের প্রশ্ন—এই সহিংসতা ও আন্দোলনের দৃশ্যে যখন মিডিয়ার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত, তখন কি আড়ালে থেকে যাচ্ছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো? বিশেষ করে বিদেশে আটকে থাকা লক্ষাধিক পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কি যথাযথ নজরদারি হচ্ছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে জনগণের মনে স্বাভাবিকভাবেই শঙ্কা জন্মাচ্ছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন—মিডিয়ার দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে রেখে কি আবারও ‘রাতের ভোট’ বা গোপন কারসাজির সুযোগ তৈরি হচ্ছে? পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাই কি এবারে সম্ভাব্য ভোট কারচুপির ‘মাস্টার মাইন্ড’ হয়ে উঠতে পারে?
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের দাবি—শুধু আশ্বাস নয়, প্রবাসী ভোটের প্রতিটি ধাপ জনসমক্ষে স্পষ্ট ও জবাবদিহিমূলকভাবে তুলে ধরা জরুরি।
নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এই সময়ে পোস্টাল ব্যালটের সঠিক হিসাব, নিরাপদ পরিবহন ও সময়মতো গণনা নিশ্চিত করা না গেলে নির্বাচন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

