ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী এলাকায় ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও উত্তাপ দিন দিন বেড়ে চলেছে। ভোটের মাত্র পাঁচ দিন বাকি থাকায় প্রার্থীদের প্রচারণা তুঙ্গে থাকলেও সাধারণ মানুষও নিজেদের অবস্থান ঠিক করতে ব্যস্ত।
৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় ভরা গ্রামে দেখা গেছে, সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মোড়ের চায়ের দোকানগুলোতে জমে উঠছে জনসমাগম। সারাদিন মাঠে কাজ করা কৃষক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিকশাচালক ও দোকান কর্মচারী ক্লান্তি ঝেড়ে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে শুরু করছেন নির্বাচনি আলোচনা।
স্থানীয় চা-দোকানি জানান, “নির্বাচন আসলেই দোকানে ভিড় বেড়ে যায়। সবাই চা খেতে খেতে রাজনীতি নিয়ে কথা বলে। কখনো কখনো তর্কও হয়, তবে শেষে হাসাহাসি করে বাড়ি যায়।
চায়ের দোকানগুলো প্রমাণিত হয়ে উঠেছে জনমত গঠনের মঞ্চ। ভোটাররা প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড, উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মত বিনিময় করছেন। কেউ উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, কেউ স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে, আবার কেউ জাতীয় রাজনীতির প্রভাব বিবেচনা করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, “চায়ের দোকান মানেই ছোট সংসদ।
সূত্র জানায়, কুড়িগ্রাম–১ সংসদীয় আসনে মোট ২২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৫ লাখ ৬০ হাজার ২৪৫ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৮ হাজার ৫৭৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন।
ভোটের ঘনিষ্টতার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের প্রত্যাশাও স্পষ্ট—সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। চায়ের দোকানে গড়ে ওঠা এই জনমতই নির্বাচনের দিন ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ভূরুঙ্গামারীর চায়ের আড্ডায় তৈরি এই ভোট সমীকরণ কতটা বাস্তব রূপ পায়।

