কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের শালদই এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটার স্লিপ প্রস্তুত করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি (ধানের শীষ) ও জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে এই সহিংসতায় অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শালদই এলাকায় বিএনপি কর্মীরা বসে ভোটার স্লিপ প্রস্তুত করার সময় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে আহত ব্যক্তিরা হলেন: ১. রাজীব জুম্মা (২৮) ২. মুখলেছুর রহমান ৩. কামাল হোসেন ৪. সালাম ৫. সোহাগ ৬. ফারুক ৭. লাল মিয়া মোড়ল (সভাপতি, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি) আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত কর্মীদের দেখতে যান সাবেক মন্ত্রী মরহুম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহ্-র পুত্র ও গাজীপুর ৪ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান রিয়াজ। তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। ঘটনার পর রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদুল হক। তাঁর সাথে কাপাসিয়ায় নিয়োজিত যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তা, বিজিবি এবং থানা পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কড়া নজরদারিতে রেখেছে। এই ঘটনায় আহত লাল মিয়া মোড়ল বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নামীয় ৫ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৩৫ জনকে আসামী করাহয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামীরা হলেন: ১. মো. জাহিদ (৩২), ২. মো. ওহিদ বেপারী (৪০), ৩. মো. সিদ্দিকুর রহমান (৪৫), ৪. মো. ইমতিয়াজ হোসেন বকুল (৫০) এবং ৫. মো. তুহিন (২৮)। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

